অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টারঃ
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ইছাখালী গ্রামের জল্লাদ শাজাহান কারাবন্দি থেকে আজ রবিবার মুক্তি পেলেন। ১৯৫০ সালে ২৬ শে মার্চ তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।তার বাবার নাম হাসান আলী ভূইয়া, মায়ের নাম সব মেহের। জল্লাদ শাজাহান ভূইয়া ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত। তিনি গনমাধ্যমকে জানান, তার নিজের বাড়ি নাই, ঘর নাই, এই বয়সে তিনি কি করবেন তাও জানেন না। তিনি এখন অন্যের বাড়ি গিয়ে উঠবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী কাছে দাবি করেন থাকার একটি ঘর ও খাবার ব্যবস্হা করার।
দেশের ইতিহাসে দীর্ঘসময় কারাগারে বন্দি থেকে জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া আজ রোববার দুপুরে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ৪৪ বছর কারাভোগ করার পরে মুক্তি পেলেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
১৯৫০ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিনে জল্লাদ শাহজাহান জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় পরাধীন জীবনযাপন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ ঘাতক ও ৬ জন যুদ্ধাপরাধী- কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যার আসামি খুকু মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসানসহ বাংলাদেশের আলোচিত প্রায় ৪০ জনের ফাঁসি দিয়েছেন জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া।
১৯৭৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৩৬টি মামলায় তার ১৪৩ বছরের সাজা হয়। পরে ৩৭ বছর কারাভোগ অবস্থায় জেল কর্তৃপক্ষ তাকে ১৪৩ বছর সাজা মাফ করে ৫৬ বছরের জন্য সাজা দেয়।
বিভিন্ন সময় ফাঁসি কার্যকর করা ও সশ্রম কারাদণ্ডের সুবিধার কারণে তার সাজা ৪৩ বছরে এসে পৌঁছায়। দুটি মামলায় ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাস করে অতিরিক্ত এক বছর সাজা খেটে ৪৪ বছর বন্দি জীবন থেকে মুক্ত আকাশে শ্বাস ফেলার সুযোগ পেলেন জল্লাদ শাহজাহান।
১৯৮৯ সালে সহযোগী জল্লাদ হিসেবে গফরগাঁওয়ের নূরুল ইসলামকে ফাঁসি দিয়ে শাহজাহান জল্লাদ-জীবনের সূচনা করেন। এরপর কারাগারে মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়নের সময় আসলেই তার ডাক পড়ে। টানা আট বছর জল্লাদের কাজ করার পর ১৯৯৭ সালে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রধান জল্লাদের স্বীকৃতি দেন।







