তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী চৌবাড়িয়া পশুহাটে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়রা জানান, হাটে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয়ে টোল আদায়ের নামে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে ছাড়পত্র রশিদে টাকার অঙ্ক লিখা হচ্ছে না। আবার গরু বেঁধে রাখা ও গাড়িতে উঠানোর জন্য বিটচার্জ হিসেবে পশু প্রতি ২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও হাটে আশা গবাদিপশু অসুস্থ হলে গোপণে জবাই করে বিভিন্ন এলাকার খাবার হোটেলে কমদামে মাংস বিক্রি বিক্রি করা হয় বলেও আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে ইজারদার বাহিনীর নানা অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা ও চরম দৌরাত্ম্যে ক্রেতা-বিক্রেতাগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এতে হাটে প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে বহিরাগত ক্রেতা-বিক্রেতা ও বেপারীদের আগমণ।
জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর এবং নওগাঁর মান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বসে হাট। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার বসে হাট সকালে ছাগল-ভেঁড়া ও বিকেলে গরু-মহিষ বিক্রি হয়। কামারগাঁ ইউপির ছাঐড় এলাকার এরশাদ আলী জানান, গরু কেনার পর ছাড় নেয়ার সময় ক্রেতার কাছে ৮০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১০০ টাকা ও বিটচার্জ ২০ টাকা নিচ্ছেন। কিন্ত্ত ছাড়পত্রে টাকার অঙ্ক লিখছেন না। তাদের বলা হলে তারা জানান এভাবেই ছাড়পত্র হয়। তানোর পৌর সদরের সাহেব আলী জানান, কোরবানির জন্য গরু কিনে ছাড়পত্রের জন্য ৮০০ টাকা, বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫০ টাকা ও বিট হিসেবে ২০ টাকা নিচ্ছেন কোনো কথায় বলা যাচ্ছে না। অথচ সরকার নির্ধারিত টোল গরু-মহিষ প্রতি ৫০০ টাকা এবং ছাগল, ভেড়া ২০০ টাকা। সেই তালিকাও সাটানো আছে।
মিলন নামের গরু ব্যবসায়ী জানান, আমরা নিয়মিত ব্যবসা করি, আমাদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা ও বিক্রেতার কাছ থেকে ১০০ টাকা এবং বিট গরুপ্রতি ২০ টাকা করে নেয়া হয়। চৌবাড়িয়া হাটের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগেও অনেকে হাট নিয়ে খাজনা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা করে আদায় করেছেন। কিন্তু এবার মোজাফফর হোসেন হাট নেওয়ার পর টোল আদায়ে রীতিমতো অরাজকতা সৃষ্টি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বেপারী বলেন, বছরে ৫২টি হাট প্রতিহাটে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার গরু এবং দেড় থেকে দুই হাজার ছাগল বিক্রি হয়। তিনি বলেন, সেই হিসেবে সাড়ে চার হাজার গরু কেনা-বেচা হলে গরু প্রতি ৯০০ টাকা ধরে একহাটে টোল আদায় হয় সাড়ে ৪০ লাখ, আর ৫ হাজার গরু কেনা-বেচা হলে টোল আদায় হয় ৫৪ লাখ টাকা। আর দেড় হাজার ছাগল কেনা-বেচা হলে ৬০০ টাকা ধরে টোল আদায় হয় ৯ লাখ এবং দু’হাজার ছাগল বিক্রি হলে টোল আদায় হয় ১২ লাখ টাকা। এবিষয়ে জানতে চাইলে হাট ইজারদার মোজাফফর হোসেন বলেন, গতবারের চেয়ে দ্বিগুনের বেশি টাকা দিয়ে হাট নিয়েছি। অতিরিক্ত টাকা আদায় না করলে লোকসান হবে। সরকারী নিয়মের বাহিরে কিভাবে দ্বিগুন টাকা আদায় করেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এটা উপজেলা জেলা পর্যায়ের প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। তারা না জানলে তো এভাবে আদায় করা যাবে না। প্রতি হাটে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে টাকা দিতে হয়। আমি তো জমি বিক্রি করে টাকা দিব না। হাট থেকেই আদায় করে দিতে হচ্ছে। সরকারী তালিকায় গরু ৫০০ টাকা ও ছাগল ২০০ টাকা মূল্য নির্ধারন করে সাইনবোর্ড দেওয়ার পরও কেন বেশি আদায় করছেন এবং ছাড়পত্রে টাকা লিখা থাকে না কেন প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বলেন, কোন হাটেই টাকা উল্লেখ করে না, আর সরকারী মূল্য তালিকা প্রশাসন লোক দেখানোর জন্য সাটিয়েছেন, আর আমি এত কিছুর জবাব দিতে বাধ্য না, আপনি যত খুশি নিউজ করেন কোন লাভ হবে না বলে। এবিষয়ে
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা আঞ্জুমান বানুর সরকারী মোবাইল নম্বরে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এমনকি হোয়াটসআপে মেসেজ দিলেও তিনি কোন উত্তর দেননি। এব্যাপারে নওগাঁ জেলা প্রশাসক (বিপিএএ) খালিদ মেহেদি হাসানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ এর আগেও এসেছে, আগামী হাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।#
Views: 388
Related