ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে তৃতীয়বারের মতো আটক দেখানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্ব মুহূর্তেও অমানবিকতার নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করল পুলিশ। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উচ্চ আদালত থেকে সকল মামলায় জামিনপ্রাপ্ত হয়ে ৯ মার্চ ২০২৩ তারিখে কারাগার থেকে বের হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে পল্টন থানার মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি সব মামলায় জামিনপ্রাপ্ত হলে পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো কলাবাগান থানার একটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। অথচ এই সময়ে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। সর্বশেষ গত ২১ জুন সব মামলায় তিনি জামিন প্রাপ্ত হন। কিন্তু সরকার তাঁকে মুক্তি না দিয়ে ২৭ জুন শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করে। এ নিয়ে পরপর তৃতীয়বার দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনলাভের পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো। আমরা এ জঘন্য অপশাসনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন নিরপরাধ জাতীয় নেতার ওপর পুলিশের এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও নির্যাতন রাষ্ট্রের আইনের শাসনের চরম বিপর্যস্ত অবস্থারই পরিচয় বহন করে।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “অবৈধ সরকারের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। স্বার্থান্বেষী মহলের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পুলিশ তাদের পেশা ও পোশাকের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ববোধ দেখাতেও ব্যর্থ হচ্ছে। নিরপরাধ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে বারবার গ্রেপ্তারের মতো বেআইনি কর্ম পুলিশ তাদের রুটিনে পরিণত করেছে। এসব নীতিহীন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পুলিশের অবস্থানকে বারংবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যা একটি সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার বিষয়।
আমরা অবিলম্বে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ নিরপরাধ জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে ভবিষ্যতে এমন আইনের শাসনের পরিপন্থি কাজ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।







