অরবিন্দ রায়,স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাত পোহালেই কাল বৃহস্পতিবার ঈদুল আজাহা। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদুল আজাহার আনন্দের সাথে জড়িয়ে আছে ত্যাগের মহিমা। ঈদের নামাজ শেষ করেই পশু কোরবানি শুরু হয়। কোরবানি করা পশুর মাংসের কিছুটা বিলি করা হয় অাত্নীয়স্বজনদের ও অভাবগ্রস্থদের বাকি মাংস নিজের পরিবারের জন্য রাখা হয়।
আমাদের সমাজে বাংলায় প্রচলিত কোরবানি শব্দের অর্থ হচ্ছে, নিকটবর্তী হওয়া বা সান্নিধ্য লাভ করা। আল কুরআনে সূরা আল মায়েদার ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, ‘ইজ ক্কাররাবা-ক্কুরবা-নান’ অর্থাৎ যখন তার দু‘জনে কোরবানি পেশ করলো বা পশু জবাই করলো, বা জবাই করে ফেলে আসল। সূরা আল কাওসারে বলা হয়েছে, ‘ফাছল্লি লিরাববিকা ওয়ানহার’ অর্থাৎ অতএব, (হে নবী!) আপনার ‘রব’ এর স্মরণে সালাত আদায় করুন ও তাঁর সন্তুষ্টির জন্যে কোরবানি করুন’। এখানে ‘নাহার’ বলতে কোরবানি বোঝানো হয়েছে। আসলে ‘নাহার’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, নহর, বিশেষ নিয়মে জবাই বা জবাই করা, জবাই করে হত্যা করা বা প্রিয় বস্তু জবাই করে হত্যা করা বা ত্যাগ করা।
কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে অনেকেরই কষ্ট করতে হয়েছে। পশু পছন্দ হয় কিন্তু টাকার বাজেট কম। এক পশুর হাট থেকে অন্য পশুর হাটের ঘুরতে হয়েছে। তবু্ও এ কষ্টের মধ্যে অন্যরকম আনন্দ আছে। পশু কিনে বাসায় আনার পর বাসায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা প্রায় সারাদিন পশুর কাছে থাকে। কোন শিশু আবার পশুকে খাবার দেয়। শিশুদের এ আনন্দ এক অন্যরকম অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
ঈদুল আজাহা সবাই পরিবারের সাথে পালন করতে চায়। যারা পরিবার থেকে দূরে থেকে চাকরি করে তাদের বাড়ি ফিরতে কতটা কষ্ট করতে হয়। অনেকেই ট্রেনের টিকিট পায় না, বাসের টিকিট পায় না। অনেক কষ্ট করে বেশি ভাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। রাস্তায় যানজটের কম বেশি ভোগান্তি তো আছেই। কেউ বা ঈদের দিন সকালে বাড়ি গিয়ে পোঁছায়। মানুষের এত কষ্ট করে বাড়ি ফিরার পরও তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি কোন চিহ্ন নেই। সব মানুষের মুখে ভেসে ওঠে খুশী আর আনন্দের চিহ্ন। পরিবারের সাথে ঈদ পালন করতে পেরে সবাই খুশি।
সবাইকে ঈদুল আজাহার শুভেচ্ছা।
পএিকার পাঠক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা সহ সকল শ্রেনি পেশার মানুষকে পবিত্র ঈদুল আজাহার শুভেচ্ছা।
অরবিন্দ রায়







