রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী
গোদাগাড়ী উপজেলার হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে এমপির নাম ভাঙিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, সহকারী শিক্ষক ও নিয়োগ কমিটির সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। অবৈধ আর্থিক লেনদেনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়। স্থানীয়রা জানান, অনুপ্রবেশকারি কালাম এখন আওয়ামী লীগের বিঁষফোড়া। তার নানামুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় আওয়ামী লীগের চরম ইমেজ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ইউপি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গ্রামবাসির অভিযোগ মাওঃ আবুল কালাম আজাদ স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমানকে চাপে রেখে প্রার্থীদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে গোপণে পচ্ছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছে, এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে আবুল কালাম আজাদ নিরাপত্তা প্রহরী, আয়া ও পরিচ্ছনাকর্মী পদে প্রার্থীদের কাছে থেকে প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে তিনি আদৌ এমপিকে টাকা দিবেন কিনা তা সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ আমরা সবাই জানি এমপি মহোদয় এসব বিষয়ে জড়িত থাকেন না।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় এমপিকে নিয়ে সাধারণের মাঝে বিরুপ মন্তব্য হচ্ছে। এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এটি একটি ইস্যু হতে পারে বলে নেতাকর্মীরা আশয্কা করছে। অথচ এমপি এবং দলের সুনামক্ষুন্ন ও ইমেজ সঙ্কট সৃষ্টি করে আবুল কালাম আজাদ নিজের পকেটভারী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়াও এই নিয়োগ সম্পর্কে এমপি সবকিছু অবগত বলে প্রোপাগান্ডা করে চলেছে আবুল কালাম আজাদ।
একাধিক অভিভাবক বলেন, গত ২২ জুন তিনটি পদে নিয়োগে গোপনে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনা জানতে পেরে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী গত ২০ জুন স্কুলের প্যাডে নোটিশ দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করেছেন। সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের একক দাপট ও টাকার বিনিময়ে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তবে পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ করার পর আবুল কালাম আজাদ রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশীশক্তি প্রদর্শন করে যেকোন মূল্যে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এমনকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল আলমকে লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলীকে অফিসে ডেকে চাকরিচুত্য করার হুমকি দেন আবুল কালাম আজাদ।
নাম পরিচয়নগোপন রাখার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তার অফিসে ডেকে আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে বলেন, এই নিয়োগ নিয়ে বেশী ঝামেলায় জাড়ায়েন না। স্থানীয় এমপি আমাকে নির্দেশ দিলে আপনার চাকরি থাকবে না, এক্ষেত্রে আমি আপনার জন্য কোন কিছু করতে পারবো না। শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল আলম নিজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রস্তাব দেয় কিছু টাকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবন্টন করে নিয়ে ২২ জুন নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে। হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ২১ জুন নিয়োগ সংক্রান্ত জরুরী মিটিংয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪ লাখ টাকা রেখে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি ফাইনাল হয়। সেই মোতাবেক পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থীদের ঠিক রেখে নামমাত্র গত ২২জুন স্কুলে তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৭জন , আয়া পদে ৩ ও নিরাপত্তা প্রহরী পদে ৩ জন অংশ গ্রহণ করে। এতে নিরাপত্তা প্রহরী পদে বাউটিয়া গ্রামের জাহিদ আলী, আয়া পদে পাতিয়াপুকুর এলাকার আন্না সরেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে হুজরাপুর গ্রামের সাদিকুল মেম্বারের ছেলে সেলিম রেজাকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে। বিশ্বস্ত
সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ, তিনিটি পদে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগের জন্য সাদিকুল ইসলামের কাছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। বাকি ২৪ লাখ টাকা অপর দুই প্রার্থীর কাছে থেকে নেওয়া হয়েছে। এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের খবরে আবুল কালাম আজাদকে জড়িয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আবুল কালাম আজাদের শাস্তি দাবি করে সমালোচনা চলছে। এসব বিষয়ে শিক্ষক মাওলানা. আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, কাজেই কে কি বললো তাতে কোন কিছু যায় আসে না। নিয়োগের বিষয়ে এমপি জানে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এই নিয়োগ বিষয়ে এমপি মহোদয় কিছুই জানেন না। নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ বিষয়ে বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এভাবে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করতে পারেন না। তার প্রক্রিয়াটি ছিলো সম্পন্ন অবৈধ এটি সে বুঝতে পেরে পরে ভুল স্বীকার করে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল আলমের সঙ্গে গত দুইদিন থেকে মোবাইলে ফোনদিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এসএমএস করা হলেও নিশ্চুপ থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মেসেঞ্জারে ঘুষ নেওয়া ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাকরীচুত্যু করার হুমকি বিষয়ে জানতে চেয়ে মেসেজ দেয়ার পরেও নিশ্চুপ থাকেন। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।এবিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপত মতিউর রহমান বলেন, টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। অনেকে অনেক কথায় বলতে পারে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।#