রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: ভাইয়ের রাজনীতি, সংগঠনের নামে অবৈধ সুবিধা আদায়ের রাজনীতি থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরত থাকার আহবান জানিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হতে হবে, আমাদের বাগাড়ম্বড়তা ত্যাগ করতে হবে, গ্রুপিংয়ের রাজনীতি, ভাইয়ের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। সংগঠনের নাম করে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্রলীগকে আদর্শিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। গত ৩ জুলাই সোমবার রাতে রংপুর টাউন হল মাঠে উপলক্ষে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী এবং ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম সাব্বির আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ স¤পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। এসময় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক এমপিসহ রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রংপুরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মন জয় করার রাজনীতি করুক। শুধু কর্তৃপক্ষের কথা শোনার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজনীতি করবে না। যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো সঙ্কট সমস্যা মোকাবেলায় ছাত্রলীগ নেতার্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে। আমরা ছাত্ররাজনীতি করি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা রয়েছে। এ সংগঠনের সংগ্রামী ঐতিহ্য রয়েছে। এ সংগঠনের সুনাম আমরা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ন হজতে দিতে পারি না। ছাত্রলীগ সভাপতি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হয়তো ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু ছাত্রলীগের প্রতিটি তরুণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গভীরভাবে ধারণ করে। প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের সাথে হয়তো জড়িত নয়, কিন্তু প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। মনে রাখতে হবে ও সেই প্রত্যাশা পূরণে আমাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে। আমরা একটি বিষয় চাই। সেটি হলো বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্দের স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য, আমাদের নিজেদের স্বপ্ন পুরণ করার জন্য, বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য, শেখ হাসিনাকে আবারো নির্বাচিত করার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের নিজেদের স্বার্থে, বাংলাদেশের মানুষের আত্নমর্যাদা রক্ষার স্বার্থে, উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে। আমরা বারবার বলার চেষ্টা করছি, শেখ হাসিনাকেই আবারও নির্বাচিত করতে হবে। ছাত্রলীগ সভাপতি আরও বলেন, বাংলার তারুণ্য ঐতিহাসিক সময়গেুলোতে যুগোপোযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৭০ সালের নির্বাচনে স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছে, নৌকার পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে। ২০০৮ সালে দিনবদলের সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। ২০২৪ সালে আমরা রায় দিবো স্মার্ট বাংলাদেশের পক্ষে। আমাদের একটিই রায়, সেটি হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ। আমাদের একটিই রায় সেটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সেই সংগ্রামকে যদি সাফল্যমন্ডিত করতে চাই, তাহলে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে হবে। সুশৃংখল করতে হবে। ছাত্রদের মনজয় করার রাজনীতি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপুর্ন রাজনীতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা তুল ধরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। সজিব ওয়াজেদ জয়ের স্বাপ্নিক জয়যাত্রার রাজধানী হবে রংপুর। সেই জয়যাত্রায় ছাত্রলীগ প্রস্তুত হয়ে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করবে। রাজপথ প্রক¤িপত করে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে, এই ই¯পাত দৃঢ় শপথ নিতে হবে ছাত্রলীগকে। ছাত্রসমাবেশে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের কয়েজ হাজার নেতাকর্মী ছাড়াও মহানগর ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে। মুহুর্মুহ শ্লোগান আর করতালিতে মুখর হয়ে উঠে পুরো টাউন হল চত্ত্বর।







