এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই
স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। সেই যুক্তরাষ্ট্র যেতে নানা সমস্যা দূরীভূত করে ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই পাড়ি জমান মিরসরাইয়ের যুবক রমিম উদ্দিন আহাম্মেদ। রমিমের প্রবাস যাত্রায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন পরিবার। কিন্ত আশা পূরণ হওয়ার পূর্বে পরপারে পাড়ি জমাতে হলো ২২ বছর বয়সী রমিমকে। গত মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে সন্ত্রাসীরা গুলি করে তাকে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা তার সঙ্গে থাকা গাড়ি ও টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই গুলি করে। রমিম মিরসরাই উপজেলার ১ নং করেরহাট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ভালুকিয়া গ্রামের বাদশাহ মিয়া সওদাগর বাড়ী মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহমেদের দ্বিতীয় পুত্র। রমিম সেন্টলুইস শহরের পার্কওয়ে সেন্ট্রাল হাই স্কুল থেকে স্নাতক শেষ করে কমিউনিটি কলেজে কম্পিউটার সাইয়েন্সে পড়ালেখা করছিলেন এবং পাশাপাশি বিপি গ্যাস স্টেশনে কাজ করতেন।
নিহতের বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, গত ১৮ জুলাই ডাকাতদের গুলিতে আমার ছোট ভাই ইয়াজ উদ্দিন রমিম মৃত্যুবরণ করে। এরপর পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করে। সে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় পুলিশ কাস্টডি থেকে পালিয়ে যায়। এই অবস্থায় আমরা সুষ্ঠ বিচার নিয়ে সন্দিহান। আমরা বাইডেন প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, বাংলাদেশ সরকারের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের জন্য অনুরোধ করছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল রমিমকে নিয়ে। রমিম যখন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিচ্ছিল আমি ও আমার মা ভেবেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রে বড় খালার কাছে থেকে সে জীবনটাকে গুছিয়ে নিক। আমার বাবা মিরসরাই কলেজে অধ্যাপনা করতেন। যখন তিনি বেঁচেছিলেন তখন মিরসরাইয়ে আমরা একটা ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেই বাসার নামই হয়ে গিয়েছিল-শামসুদ্দিন প্রফেসরের বাসা। অথচ আমার বাবা সেটার মালিক ছিলেন না। আমাদের দুই ভাইয়ের ইচ্ছা ছিল, সেই নামে মিরসরাইয়ে একটা বাড়ী করবো। সৎভাবে পরিশ্রম করে দুই ভাই মিলে আমাদের ফ্যামিলিটাকে দাঁড় করাব কিন্তু আমাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল এক নিমেষেই ঘাতকের গুলিতে।’
রমিমের মা নাসিমা আক্তার বলেন, ‘রমিম আমাকে বলছিল আমার কাগজপত্র সে রেডি করেছে। আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাবে সেখানে চিকিৎসা করাবে, সেখানে বাড়ি কিনবে এবং সেখানে একসাথে থাকবে। গত ৭ বছরে একবারও সে দেশে আসেনি, ছেলের মুখটা সামনাসামনি বসে দেখিনি; পাশে বসে আদর করতে পারিনি। এবছর দেশে আসার কথা ছিল, অথচ তার আগেই চলে গেল আল্লাহর কাছে। আমি কেমনে সহ্য করবো সন্তান হারানোর বেদনা! আমার ছেলেকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। তাদের ফাঁসি না হলে আমি শান্তি পাব না।’
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মিরসরাইয়ের বাসিন্দা সাংবাদিক মঞ্জুরুল হক বলেন, মঙ্গলবার মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস শহরের হ্যাম্পটন এভের ১১০০ ব্লকের একটি গ্যাস স্টেশনে কাজ করছিলেন রমিম। এসময় বাইরে দাঁড় করানো রমিমের গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে একদল সন্ত্রাসী। রমিম তাদের বাঁধা দিলে এক বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জ্যাটাভিয়ন স্কট নামের ১৯ বছরের এক তরুণকে খুঁজছে পুলিশ।
আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিরসরাই উপজেলা শাখার সভাপতি নয়ন কান্তি ধুম বলেন, ইয়াজ উদ্দীন আহমেদ রমিমকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং তার লাশ পরিবারের কাছে দ্রুত হস্তান্তর করতে হবে। রমিম হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আমেরিকার দূতাবাস বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। আমাদের ভাই রমিমের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বাংলাদেশে অবস্থিত আমেরিকার দূতাবাস ঘেরাও করবো। আমেরিকায় এই পর্যন্ত যত বাংলাদেশি খুন হয়েছে সবগুলো খুনের ন্যায় বিচার দাবী করেন তিনি।
বিচারের দাবীতে মিরসরাইয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা: যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশী যুবক রমিম উদ্দীন আহমেদকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ মিরসরাই উপজেলা শাখার আয়োজনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌর সদর প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উপজেলা শাখার সভাপতি নয়ন কান্তি ধুমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফরের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উপজেলা শাখার উপদেষ্টা কামরুল হোসেন, মঘাদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফায়েল উল্ল্যাহ চৌধুরী নাজমুল, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিরসরাই শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ মিয়া মিঠু, দপ্তর সম্পাদক নুর উদ্দিন, আশরাফুল বারী অপু প্রমুখ।
বিচারের দাবীতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন: শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘আমরা চট্টগ্রামবাসী’ নামের একটি সংগঠন রমিম হত্যাকান্ডের বিচার দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্য, সংস্কৃতি কর্মী ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা ফেস্টুনসহ অংশ নেন। সংগঠক ইয়াসির আরাফাতের সঞ্চালনায় রমিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কবি অনিন্দ্য টিটো, যুব নেতা শোয়েব ইসলাম, রাশেদুল আলম, শৈবাল দাশ, সাদ্দাম হোসেন, আরাফাত হোসেন, রাশেদ, সালাউদ্দিন প্রমুখ।
সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
সাতক্ষীরার- ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুন (১৯) এর মরদেহ গলায় ফাঁস লাগা অবস্থায়...







