দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু। চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫৬ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৪৪৩ জন। এরমধ্যে গত এক দিনে নতুন করে একজনের মারা গেছেন। আর শনাক্ত হয়েছেন ৮৯৬ জন।
ডেঙ্গুতে শুধু বড়রাই নন, আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও। বিশেষ করে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গুতে। ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রথম দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও গত জুনের পর তা বাড়ছে। চলতি জুলাই মাসে ২০ দিনে ভর্তি হয় প্রায় ২০০ শিশু। প্রথমে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড রোগীর জন্য বরাদ্দ থাকলেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২ নম্বর ওয়ার্ডও দেয়া হয় ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য।
শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় দ্রুত জটিল হয়ে পড়ছে শারীরিক অবস্থা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম অবস্থা শিশু হাসপাতালের। দিনরাত মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রাজধানীর ডেমরার ১৩ মাস বয়সী আব্দুল্লাহ। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সে চিকিৎসা নিচ্ছে ঢাকা শিশু হাসপাতালে।তার মায়ের ধারণা, সকালের দিকে মশারি ছাড়া ঘুমানোর কারণেই কামড়েছে প্রাণঘাতী এডিস।
হাসপাতালে অন্য রোগীর স্বজনরা জানান, প্রথমে বমি আর পাতলা পায়খানা হয়। তারপর জ্বর আসে। জ্বরের একপর্যায়ে বাচ্চার মুখে রেশ দেখা যায় বলেও জানান তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩০০-র বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, রাতে তো বটেই, দিনের বেলা যেকোনো সময় ঘুমালে শিশুকে অবশ্যই মশারির ভেতর রাখতে হবে। অন্যান্য সময় শরীর খালি অংশ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাচ্চারা দিনে বা রাতে যখনই ঘুমাবে, অবশ্যই মশারি টানাতে হবে। বাচ্চারা ঘুমানোর সময় যাতে শরীরের কোনো অংশ খালি না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নিজের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে।
যাদের চলাফেরা কম, তাদের মশায় কামড়ানোর হার অনেক বেশি। বিশেষ করে যেসব শিশু বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে বা দিনের বেলায়ও ঘুমায়, তাদের মশারির নিচে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আর বড় কিংবা ছোট যেকোনো বয়সের মানুষের জ্বর দেখা দিলে দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শও দেন তারা।








