আমতলী: বরগুনার আমতলীতে রাস্তার পাশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নানান এ্যান্টিব্যয়েটিক, রুচি ও যৌন উত্তেজনা ঔষধ। কোন সরকারি নিয়ম নীতি না মেনেই হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছে কিছু অসাধু ক্যানভাসাররা। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এদের দেখা মেলে।
আমতলী পৌর শহর জুরে বুধবার সারাদিন বাজার বসে। এ বাজারকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে পৌরসভা রোড পর্যন্ত সহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও পথে-ঘাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের ট্যাবলেট ও এ্যান্টিব্যয়েটিকসহ যৌন উত্তেজক ওষুধ। মাইকিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকর্ষণ করে অসাধু ব্যবসায়ীরা নামহীন কোম্পানির এসব ওষুধ বিক্রি করছে।
এদিকে কম দামে এসব ঔষধ কিনে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।
প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড ছাড়া ঔষধের ব্যবসা পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, শুষ্ক ও রোদমুক্ত স্থানে ওষুধ সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু তা মানছেন না আমতলী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, পথে-ঘাটে ও ফুটপাতের ছোট ছোট ঔষধ ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে শুরু করে পৌরসভা রোড পর্যন্ত দেখা যায়। তারা বাজারের বিভিন্ন স্থানে মজমা বসিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে মাইক বাজিয়ে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, যৌন উত্তেজক, ভিটামিন, ক্যালসিয়ম, দেশী – বিদেশি ঔষধ নামে-বেনামে নানা ধরনের ঔষধ বিক্রি হচ্ছে।
আমতলী উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খোকন বলেন, আমতলী বিভিন্ন হাট-বাজার, পথে-ঘাটে দিনদিন বেড়েই চলেছে এসব অবৈধ ওষুধের ব্যবসা। এতে প্রশাসনের কোন ভূমিকা দেখি না। প্রশাসন যদি কোন পদক্ষেপ নিতো তাহলে জীবন রক্ষাকারী নিম্নমানের ওষুধ যত্রতত্র বিক্রি বন্ধ হতো। এসব বন্ধ না করলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েই চলবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওষুধ কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ফার্মেসিতে যে ওষুধের দাম ২০ টাকা সেটা এখানে ১০ টাকায় পাওয়া যায়। আমরা গ্রামের মানুষ, ওষুধ সম্পর্কে অতো বুঝি না। কম দামে পাওয়ায় আমরা এখান থেকে ওষুধ কিনি। সব ওষুধ দেখতে তো একই রকম, কিন্তু ফার্মেসিতে দাম বেশি।
ওষুধ বিক্রেতারা বলেন, রাস্তার পাশে ওষুধ বিক্রি করার নিয়ম নেই। তবে বিভিন্ন কোম্পানির প্রচারে ও পেট বাঁচানোর জন্যই এসব ওষুধ বিক্রি করি। ওষুধ খেয়ে মানুষ উপকার পায় বলেই এ ধরণের ওষুধ চলছে খুব বেশি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোনায়েম সাদ বলেন, এ সকল ঔষধের কোন ধরনের কোন অনুমতি নাই।এসকল ঔষধের মধ্যে যে সকল উপাদান রয়েছে তা স্বাস্থ্য হানিকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।যা হার্টের,লিভার,কিডনীর রোগের কারণ হতে পারে।
তাই এ সকল ঔষধ বিক্রেতার ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের অভিযান অব্যহত আছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
সোনালীনিউজ







