মোহাম্মদ সোহেল (টাঙ্গাইল) জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাশাপাশি সেচ পাম্প স্থাপন নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। সংঘাতের আশংকায় প্রশাসনের নজরদারীতে রয়েছে।
উপজেলার ফলদা চন্ডিপুর মৌজায় অগভীর নলকুপ স্থাপন করে লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রায় ১৫ একর ধানী জমিতে নিয়মিত সেচ দিয়ে আসছে ফলদা দিঘুলিয়া পাড়ার মোঃ রফিকুল ইসলাম। ২০২১ সালে বোরো মৌসুমে একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে পাশের জমিতে একই গ্রামের শামছুল হক আরো একটি সেচ পাম্প স্থাপন করার চেষ্টা করলে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন দেয় রফিকুল ইসলাম। স্থানীয় বিএডিসি কে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেন নির্বাহী অফিসার। একই বছর ১ জানুয়ারি বিএডিসি কালিহাতী ইউনিটের যন্ত্রবিদ মোঃ সজিব মিয়া তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন যে ঐ নলকুপ স্থাপন করলে অন্যান্য নলকুপের উপর বিরুপ প্রভাব পড়বে এবং নতুন আবেদন কারীর কোন কমান্ডিং এরিয়া নাই।
তারপরেও থেমে থাকেনি ঐ চক্রটি। জোর করেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। একই বছর পুনরায় ১ জুন বিএডিসি কালিহাতী ইউনিটের উপ সহকারী প্রকৌশলী ( ক্ষুদ্র সেচ) মোঃ রোমান মিয়া তদন্ত করে পূর্বের তদন্তের সাথে মিল রেখে আরো একটি প্রতিবেদন দেন।
এ ছাড়া ২০২১ সালে একই জমিতে সেচ পাম্প স্থাপনের জন্য পিতা পুত্র পৃথক দুইটি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে সেচ কমিট তাদের আবেদন নাকচ করে দেন।
বিএডিসির নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও ২০২২ সালের ২৪ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ইশরাত জাহান ভূঞাপুর থেকে অনত্র বদলি হওয়ার ঠিক আগের দিন সকল তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে উৎকোচের বিনিময়ে ওই নলকূপ স্থাপনের লাইসেন্স দিয়ে যান। হতবাক হয় এলাকাবাসী। অরপদিকে লাইসেন্স পেয়ে সেচ পাম্প স্থাপন শুরু করে দেয় শামসুল হক তালুকদার। বাঁধা দেয় রফিকুল ইসলাম সংঘাতের আশঙ্কা দেখে স্থানীয় প্রশাসন উভয় কে শান্ত থাকার আহবান জানান।
এই আউস মৌসুমে বৃষ্টিপাতের বদলে চলছে প্রচন্ড খরা। তাই সেচ পাম্প দিয়েই ধান আবাদের পরিকল্পনা করছে কৃষক। আবারও দেখা দিযেছে সংঘর্ষের আশংকা। যে কোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। এলাকাবাসী মনে করে এখনই প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহন করা।
মোহাম্মদ সোহেল







