ঢাকা: বহু নাটকিয়তার পর আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন ও বিএনপি তাদের শান্তি সমাবেশ ও মহাসমাবেশের দিন পরিবর্তন করেছে। আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ শান্তি সমাবেশের জন্য চেয়েছে। তবে বিএনপি শুক্রবার তাদের দলীয় কার্যলয়ের সামনেই মহাসমাবেশ করতে চাইছে। কিন্তু এই দুই দলের চাহিদার বিপরীতে পুলিশের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২৬ জুলাই) সকালে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক এক প্রশ্নের উত্তরে গণমাধ্যমকে বলেন, মোট ৯টি দলের শান্তি সমাবেশ ও মহাসমাবেশ করার আবেদন পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে কাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে তা জানানো হবে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে। তবে সবাইকে নয় অনুমোদন দেয়া হবে কয়েকটি দলকে।
এর আগে, আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররের দক্ষিণ গেট ও বিএনপি’র পক্ষ থেকে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বা সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দল তাদের সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করে।
বুধবার (২৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক কিলোমিটারের মধ্যে দুই দলের এত বড় সমাবেশের আবেদন করায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চাহিদা অনুযায়ী অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়। এত কাছাকাছি সমাবেশ করলে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে বলা হয়, গোলাপবাগ মাঠে তাদের মহাসমাবেশ করা যায় কিনা তা দেখতে। আর আওয়ামী লীগকে বলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম মাঠে শান্তি সমাবেশ করা যায় কি না তা দেখতে। বাকি দলগুলোকে অনুমতি দেয়া হয়নি। এরপরই পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। বিএনপি তাদের মহাসমাবেশ গোলাপবাগে করবে না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেয়। আর আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনকে শান্তি সমাবেশ করতে জিমনেশিয়াম মাঠ দেয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবারের মহাসমাবেশের স্থান চূড়ান্ত করতে বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে জানানো হবে। এরই ধারাবাহিকতায় কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানালো বিএনপি।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়, তারা তারিখ পিছিয়ে হলেও নয়াপল্টন বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করতে চায়। কিন্তু এ বিষয়ে পুলিশের কোনো সাড়া না পাওয়ায় একদিন পিছিয়ে বৃহস্পতিবারের মহাসমাবেশ আগামী শুক্রবার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
বুধবর (২৬ জুলাই) রাত ৯টায় বিএনপি’র চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ২৭ জুলাই পরিবর্তে ২৮ জুলাই (শুক্রবার-সাপ্তাহিক ছুটির দিনে) দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে পূর্ব ঘোষিত মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি, দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানে সরকার কিংবা সরকারের কোনও প্রতিষ্ঠান বাধা সৃষ্টি করবে না।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের কথা গত ২৩ জুলাই ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ আমাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উচ্চ আদালতের আপত্তি এবং কর্ম দিবসে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানে জনদুর্ভোগের অজুহাতে সমাবেশ অনুষ্ঠানে আপত্তি জানিয়েছে। যদিও ইতোপূর্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং কর্ম দিবসে নয়াপল্টনে অসংখ্য সমাবেশ ও মহাসমাবেশের দৃষ্টান্ত রয়েছে।

বায়তুল মোকাররমে চলছে শান্তি সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ
এদিকে আওয়ামী লীগের দপ্তার সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠ কিছুটা ভেজা থাকায় একদিন শান্তি সমাবেশ পেছানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃষ্টিতে মাঠের কিছু জায়গায় পানি জমে আছে। কাঁদাও আছে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে। মাঠ ঠিক করে এই সমাবেশ করতে হবে। তাই বৃহস্পতিবারের (২৬ জুলাই) পরিবর্তে শুক্রবার (২৭ জুলাই) শান্তি সমাবেশ করা হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে উন্নয়ন ও শান্তির এই সমাবেশ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার দুপুর দুইটায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে এই সমাবেশ। উপস্থিত থাকবেন দলের সিনিয়র নেতারা। তারাই মূলত এই সমাবেশে বক্তব্য দিবেন। যুবকদের ভবিষ্যতের করণীয় সম্পর্কে জানাবেন।







