রাজধানী ঢাকায় একই দিনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সমাবেশকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইতোমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রবেশমুখ সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বসেছে পুলিশের তলাশিচৌকি। ঢাকামুখী বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যাত্রী পরিবহনে তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর, সাভার, হেমায়তেপুর, আমিনবাজার এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া সাভারের বিরুলিয়া, আশুলিয়ার ধউর, জিরানী, জিরাবো ও বাইপাইলেও তল্লাশি করা হচ্ছে।
পেলে আটকে রাখা হচ্ছে। পরে অনেককে আবার ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে। তবে সাভারের আমিনবাজার এলাকার তল্লাশিচৌকিতে সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দুই দফায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে আটকে রাখা অর্ধশত ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পুলিশের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী নয়। ঢাকায় রাজনৈতিক দুটি দলের কর্মসূচি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যে সন্দেহ হলে ছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে খোঁজ খবর নিয়ে তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কাউকে আটক করা হয়নি। কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। প্রিজন ভ্যানে করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই কয়েকজনকে নেওয়া হয়েছে।
সকালে আমিনবাজার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার অন্যতম এ প্রবেশপথে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঢাকাগামী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রবাস ও মোটরসাইকেলের যাত্রীদের জিজ্ঞেসাবাদ করছেন। পুলিশ সদস্যদের অনেকে যাত্রীদের মুঠোফোন ঘেঁটে দেখছেন। তল্লাশি করছেন ব্যাগ। এছাড়া ঢাকায় যাওয়ার কারণ ও পরিচয় জিজ্ঞেস করছেন। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে অনেককে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমিনবাজার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চত্বরে।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে সেখানে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান আনা হয়।
সকালে ধামরাইয়ের বাস্তা এলাকা থেকে ঢাকার মিরপুরে যাচ্ছিলেন মো. রাসেল। পুলিশের এক সদস্য তার মুঠোফোনেও সন্দেহজনক তথ্য খোঁজেন। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, পুলিশ আমাকে কিছুক্ষণ তল্লাশি ও আমার মোবাইল চেক করে দেখলেন। এরপর ছেড়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস ও ট্রাফিক উত্তর বিভাগ) আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, আজ ঢাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকল ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি জোরালো করা হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন যাত্রী পরিবহনে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে। সন্তোষজনক উত্তর পেলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার অনেকের তথ্য যাচাই করে দেখতে কিছুক্ষণ তাদের অপেক্ষা করানো হচ্ছে। এখনো কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। তবে কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।








