রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: আজ বুধবার রংপুরে আসছেন জাতির জনক শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। উদ্বোধন করবেন ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের পুত্রবধু, তিনি রংপুরের মা। এই দাবিতে দাবিদার রংপুরের মানুষ। ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে রংপুরে উন্নয়নে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এমন দাবি রংপুরবাসীর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর সফরসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার দুপুর ২টায় রংপুর ক্যান্টনমেন্ট হেলিপ্যাডে অবতরণ করবে। দুপুর ২টা ৫মিনিটে ক্যান্টনমেন্ট হেলিপ্যাড থেকে সড়কপথে রংপুর সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। ২টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউসে পৌঁছে সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী রংপুর জিলা স্কুল মাঠের জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। বিকাল ৩টা ৫মিনিটে জিলা স্কুল মাঠের মহাসমাবেশে উপস্থিত হবেন তিনি। সেখানে তিনি রংপুর বিভাগের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। মহাসমাবেশে বক্তব্য শেষ করে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট এর হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে সড়কপথে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দাবি পূরণের আশায় বুক বেঁধেছেন রংপুরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী এবার রংপুরে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন এবং ৫টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর সঙ্গে নতুন প্রতিশ্রুতির ঘোষণাও আসতে পারে। রংপুরের পুত্রবধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক সুজিত রায় নন্দী, এস এম কামালসহ দলের নেতাগণ রংপুরে অবস্থান করছেন। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে নৌকার আদলে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রংপুরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত হয়েছে রংপুর বিভাগের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ। মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে তৃণমূলকে শক্তিশালী করে বিরোধী জোটের মাঠের আন্দোলন মোকাবিলা ও রংপুর বিভাগকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে রূপান্তরের স্বপ্ন নেতা-কর্মীদের। সমাবেশে ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে সভাস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টগণ। শেখ হাসিনা সবশেষ রংপুরে এসেছিলেন ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর। সেদিন তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে দু’টি নির্বাচনী জনসভা করেছেন। সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পর শেখ হাসিনা রংপুরে আসছেন। এর আগে ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি রংপুর জিলা স্কুল মাঠে মহাজোটের জনসভায় উন্নয়নের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক একে এম ছায়াদত হোসেন বকুল বলেন, মহাসমাবেশে ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৫৮টি উপজেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ আনার প্রস্তুতি রয়েছে। জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় বর্ধিত সভা করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও এমপি ও মন্ত্রীরা সবাই রংপুরের এ সমাবেশ সফল করতে বিভিন্নভাবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, এক যুগ পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আসছেন। নিশ্চয়ই তিনি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন। সেই অপেক্ষায় এখন রংপুরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে মঙ্গাপীড়িত এ অঞ্চলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উত্তরবঙ্গের মানুষ আনন্দিত।
এস, এম শাহাদৎ হোসাইন







