জানা যায় তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, তার বাড়ী ৬নং গুপ্টী পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ ষোলদানা মিজি বাড়ী, তার পিতার নাম মৃত আবদুল ছালাম মিজি, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা তিনি নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন না আর আসলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে তিনি করে চলছে এলাকাভিত্তিক কিশোর গাংয়ের গ্রুপ, প্রতিষ্ঠানের কোন নিয়ম না মেনে তিনি দলীয় প্রভাব দেখিয়ে দিনের পর দিন করে যাচ্ছেন এই সকল অনিয়ম,তার ভয়ে মুখ খোলেন না অন্যান্য শিক্ষকগণ, একজন সরকারী কর্মচারী হয়ে সঠিক নিয়মে দায়িত্ব পালন না করেও কিভাবে তিনি মাসিক সম্মানী ভাতা তুলে নিচ্ছে তাহা আদৌ অজানা। কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালনোর কথা শুরু হলে তিনি এই কিশোর গাংয়ের সাহায্য নিয়ে তার স্বার্থ ও সিদ্ধির কাজ উদ্ধার করে নেয়।
তার ছত্রছায়ায় এলাকার কিশোর গ্যাংয়েরা তৈরি করছে সন্ত্রাসের নৈরাজ্য, পাশবর্তী এলাকার একজন মুরব্বি জানান সোহেল বিভিন্ন সময়ে সমস্যা মীমাংসার জের ধরে আমাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, বিনিময়ে আমরা কোন উপকার পাইনি। জনসাধারণকে গ্রাম সালিশের নামে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। সাধারন লোকজনের উপকারের কথা বলে তিনি এই সকল অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
খাজুরিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায় তার রাজনৈতিক কার্যালয়, তার রাজনৈতিক কার্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায় অত্র অফিসে কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাখানা, প্রতিদিন অত্র অফিসে চলে কিশোর গ্যাংয়ের মিটিং ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলাপ আলোচনা, খাজুরিয়া বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান অত্র অফিস থেকে কিশোর গাংদের অাধিপত্য বিস্তারে প্রলোভন দেওয়া হয় এবং সেই অনুসার চলে সন্ত্রাসের নৈরাজ্য।
ইউনিয়ন পরিষদ অফিস এ গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি প্রনোদনার বিপুল সংখ্যক অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই সোহেল মাষ্টার ওরফে সোহেল ভাই, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে এই সকল সরকারী প্রণোদনার ভাগ না দিলে তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে কোনঠাসা করে রাখা হবে বলে হুমকি প্রদান করা হয়। অত্র ইউনিয়নের প্রত্যেকটি সরকারি অফিসে চলে তার অবাধে বিচরন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনৈতিক কাজ করে চলছে দিনের পর দিন, কখনো অর্থের আবার কখনো রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে স্বার্থ সিদ্ধি উদ্ধার করা তার কাজ।
নিজের রাজনৈতিক প্রভাব ও বাহুবল খাটিয়ে তিনি কখনো উপজেলা ভূমি অফিস কখনো ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড হাসিল করার জন্য ভূমি অফিসকে চাপ প্রদান করেন। সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায় পারিবারিক সম্পত্তিগত বিষয় নিয়ে তার চাচাতো ভাইদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল, এই সকল বিষয় তাদের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক গড়ে উঠে, তার চাচাতো ভাই ফয়সাল এর কাছে পারিবারিক সম্পত্তিগত বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান সোহেল মাষ্টার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি প্রদর্শন করে আসছে, তার ভয়ে আমরা সবসময় আতংকিত।
সম্পত্তিগত বিষয় নিয়ে পারিবারিক আপোষ মীমাংসা না করে বারবার তার শরীকদের অগোচরে খাজনা খারিজ করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এসে খাজনা খারিজ করে দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিস থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায় ইতিপূর্বে কয়েকবার সোহেল মাষ্টার শরীকানদের অগোচরে নামজারী ও জমাখারিজের জন্য আবেদন করলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর তদন্ত সাপেক্ষে তাহা বাতিল ঘোষনা করেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ঝুলানো চার্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, তার চাচাতো ভাই ফয়সাল আগে থেকে এই সকল অনৈতিক খাজনা খারিজ যাতে না করতে, সেই জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দরখাস্ত প্রদান করেন, উপজেলা ভূমি অফিস এই নামজারী ও জমাখারিজের জন্য স্থগিতাদেশ দেন।
এলাকার গন্যমান্য কয়েকজন ব্যক্তির জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তার অনৈতিক নামজারী ও জমাখারিজের কার্যক্রম হাসিল না হওয়ার কারনে তিনি গত ০১.০৮.২০২৩ ইং তারিখে কিশোর গাংয়ের দল ও এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে হামলা চালায় এবং ভয় ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে, কেড়ে নেয় প্রচুর সরকারি নথি, দফায় দফায় চলে তাদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম , এই সকল কার্যক্রম সচল রাখার জন্য তিনি নিয়মিত ক্যাডার বাহিনী লালন -পালন ও তাদের ছত্রছায়া প্রদান করে আসছে। তার এই সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাড়া না দেওয়ায় তিনি বিভিন্ন সময়ে উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে হুমকি প্রদান করে আসছে। একজন শিক্ষক হয়ে তিনি কত টাকা বেতন পান এবং কিভাবে তিনি এই সকল কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী লালন পালন করেন, এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে, কিভাবে তিনি এত টাকা পান।






