কুষ্টিয়া: বিদ্যালয়ের ছাদে পাঁচ ছাত্রী ধূমপান করছিল। এই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করেন দুই শিক্ষক। এরপর ছাত্রীদের ডেকে মারধর করার পর ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। সেই ভয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে জিনিয়া খাতুন নামের এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করে। গতকাল সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়াদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত জিনিয়া কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়াদি গ্রামের হঠাৎ পাড়ার জিল্লুর শেখের মেয়ে। সে সুলতানপুর মাহাতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
মৃত জিনিয়ার মামা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পাঁচজন ছাত্রী গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুলের ছাদে ধূমপান করছিল। সেখানে আমার ভাগ্নি জিনিয়াও ছিল। সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাল্টু ও ওয়ালিউর রহমান ভিডিও করেন। পরে ছাত্রীদের ডেকে মারধর করে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। সেই সঙ্গে টিসি দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়াসহ অভিভাবকদের জানানোর ভয় দেখান। বিদ্যালয় ছুটির পর আমার ভাগ্নি বাড়িতে এসে নিজের ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাল্টু মাস্টারের চরিত্র ভাল না। সে আমার বোনের মেয়ের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করেছে। লাল্টু মাস্টারসহ অভিযুক্ত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
মৃত জিনিয়ার স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, জিনিয়ার বান্ধবীদের সিগারেট খাওয়ার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে লাল্টু মাস্টার। এরপর জিনিয়াসহ তার বান্ধবীদের অপমান করে লাল্টু মাস্টারসহ কয়েকজন শিক্ষক। অপমান সইতে না পেরে জিনিয়া আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি।
সুলতানপুর মাহাতাবিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।’
কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম আকিব বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’







