ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৩: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারের জন্য ভূ-রাজনৈতিক
বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষাবিদ, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ,
জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
আজ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সিন্ডিকেট হলে 'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: হু ডিসাইডস অ্যান্ড হোয়াই?' শীর্ষক
এক নীতি বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা বলেন, “বিশ্ব এই মানবিক সংকটের জটিলতা মোকাবেলা করছে এবং রোহিঙ্গাদের
ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সহযোগিতামূলক সমাধানের জন্য একমাত্র ফলপ্রসূ সংলাপই আশার
আলো হিসেবে কাজ করতে পারে।”
এনএসইউ’র সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ
(সিপিএস) আয়োজিত এই আলোচনা সভায় রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস ২০২৩ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বর্তমান
প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়।
এসআইপিজি পরিচালক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস কে তৌফিক এম হকের
সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআর'র প্রতিনিধি জোহানেস
ভ্যান ডার ক্লাউ। আরও উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ'র পিএসএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন;
এসআইপিজির সিনিয়র ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন; বিশিষ্ট রোহিঙ্গা রাজনৈতিক নেতা জনাব নুরুল
ইসলাম; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সাবেক
চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ; ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাসের টিম লিডার ও ইনক্লুসিভ গভর্ন্যান্সের
ফার্স্ট সেক্রেটারি এনরিকো লরেঞ্জো; বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের আঞ্চলিক শরণার্থী সমন্বয়কারী ম্যাকেনজি রো।
এনএসইউ'র সিপিএসের সমন্বয়ক ড. আবদুল ওয়াহাবের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআর'র প্রতিনিধি জোহানেস ভ্যান ডার ক্লাউ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান
অবস্থা এবং তাদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরেন। বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা
জনগোষ্ঠীকে ‘বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী' আখ্যায়িত করে জোহানেস রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও
টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বাংলাদেশকে সব দিক থেকে সমর্থন করার
পরামর্শ দেন।
এনএসইউ’র সহযোগী অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন রোহিঙ্গা সংকটের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও মানবিক দিকগুলো নিয়ে
আলোচনা করেন। ড. জসিম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন প্রয়োজন, তবে এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে
অবশ্যই তাদের কথা শুনতে হবে।
এসআইপিজি'র সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সঙ্গে
সম্পর্কিত নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে
ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে অবশ্যই নিরাপদে থাকতে
হবে।
বিআইআইএসএসের সাবেক চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কূটনৈতিক বিবেচনা ও
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায়
আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক চাপ অপরিহার্য।
সঞ্চালক প্রফেসর ড. হক বলেন, টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় তাদের নিজ নিজ সংস্থার
ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে
সহযোগিতামূলক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...








