ঢাকা: সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে অপপ্রচার রোধ ও মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার (২৮ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় এ নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
তিনি বলেন, জাতীয় পেনশন স্কিম চালু হয়েছে, আমাদের বলা হয়েছে যে, ১০ হাজারের বেশি হিসাব হয়ে গেছে এবং লাখেরও বেশি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।
‘ঐতিহাসিক উদ্যোগটির বিপক্ষে অনেকেই মিথ্যা প্ররোচণা বা নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছে। সরকার কী করেছে, কী করতে যাচ্ছে, কীভাবে মানুষ উপকৃত হবে- বিষয়টি যাতে জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন যে, জনগণ যেন জেনে, শুনে ও বুঝে, কোনো রকম কোনো প্ররোচনা বা উস্কানি বা অপপ্রচারে প্রভাবিত না হয়, সেক্ষেত্রে সবাইকে নজর রাখতে বলেছেন।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের বিভিন্ন কথাবার্তা যারা যেখানে বলবেন, তারা এটা জানাবেন, কেউ যদি এটা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তাহলে উত্তর দেবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে করে এটি ব্যাপক প্রচার পায়।
এদিকে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’র খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, নীতিগত অনুমোদনের সময় যে খসড়াটি ছিল সেখানে দুয়েকটি সংজ্ঞাসহ সামান্য কিছু পরিমার্জন করে করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৭, ১৯, ২৭ ও ৩৩- এ চারটি ধারা অজামিনযোগ্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ (ধারা-১৭), কম্পিউটার ও কম্পিউটার সিস্টেমে ইত্যাদির ক্ষতি সাধন (ধারা-১৯), সাইবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠনের অপরাধ (ধারা-২৭), হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ (ধারা-৩৩) অজামিনযোগ্য রাখা হয়েছে।
নতুন আইন হলে আগের আইনের মামলাগুলোর বিষয়ে কী হবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের রহিতকরণ একটা ধারা থাকে। সেখানে বলা হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’র অধীনে অনিষ্পন্ন মামলা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে এবং অনুরূপ মামলায় প্রদত্ত আদেশ, রায় বা শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল সংশ্লিষ্ট আপিল ট্রাইব্যুনালে এমনভাবে পরিচালিত ও নিষ্পত্তি হবে যেন ওই আইন রহিত হয়নি। ওই অংশটুকু আগের আইনেই চলবে সেটিই বলা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত আগের আইনের যে সকল কার্যক্রম ছিল ওই আইনে সেগুলো নিষ্পন্ন হবে।
সংজ্ঞার বিষয় কী পরিবর্তন এসেছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাইরে ও বাংলাদেশের ভেতর থেকে কেউ যখন কোনো কিছু করে, কোন কাজটা করলে অপরাধ হবে সেখানে ‘ডিজিটাল ডিভাইস’ শব্দটা বসানো হয়েছে। একটা ধারায় ছিল ‘জাতির পিতা’ সেটা বাদ দিয়ে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ করা হয়েছে। এটা মেজর কিছু না, স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে।
জরিমানার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
এর আগে গত ৭ আগস্ট মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।







