ঢাকা: শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আচরণ অর্থাৎ বর্তমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে চিঠি লিখেছেন ১০০ জন নোবেল বিজয়ীসহ ১৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
চিঠিতে বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বানও জানা হয়েছে।
সোমবার (২৮ আগস্ট) রেজাল্টস অ্যান্ড সিভিক কারেজের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ডেলি হ্যারিস এক বিজ্ঞপ্তিতে খোলা চিঠিটি প্রকাশ করেন। তিনি চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের একজন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা আপনাকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, নির্বাচিত কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের নেতা এবং বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে লিখছি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে আপনার জাতি যেভাবে প্রশংসনীয় অগ্রগতি করেছে, আমরা তার প্রশংসা করি।
সম্প্রতি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের যে হুমকি দেখেছি তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া এবং নির্বাচনী প্রশাসন দেশের সব বড় দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের দুটি জাতীয় নির্বাচনে বৈধতার অভাব ছিল।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মামলা মানবাধিকারের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। ১৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বলছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের জন্য যে হুমকিটি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন তা হলো নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মামলা। আমরা উদ্বিগ্ন যে সম্প্রতি তাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি ক্রমাগত বিচারিক হয়রানি।
এই চিঠিটি ৪০ জন বিশ্বনেতার দ্বারা আপনার কাছে আগের আবেদনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা ডক্টর ইউনূসের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমরা সসম্মানে অনুরোধ করছি, আপনি যত শিগগির সম্ভব অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বর্তমান বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ করুন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইন বিশেষজ্ঞসহ আপনার দেশের নিরপেক্ষ বিচারকদের একটি প্যানেল দ্বারা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হোক। আমরা নিশ্চিত তার (ইউনূস) বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী এবং শ্রম আইনের মামলাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করলে তাকে খালাস দেওয়া হবে।
আপনি জানেন, অধ্যাপক ইউনূসের কাজ আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণামূলক। কীভাবে সামাজিক ব্যবসা আন্তর্জাতিক অগ্রগতির জন্য একটি শক্তি হতে পারে, যার ফলে শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ হয়। সাম্প্রতিক দশকগুলোয় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিরা কীভাবে বৈশ্বিক অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন তার একটি প্রধান উদাহরণ তিনি। আমরা আন্তরিকভাবে কামনা করি, তিনি নিপীড়ন বা হয়রানি মুক্ত হয়ে তার কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।
আমরা আশা করি, আপনি এই আইনি সমস্যাগুলোর সমাধান একটি নিরপেক্ষ এবং ন্যায্য পদ্ধতিতে নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি আসন্ন মাসগুলোতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন এবং সমস্ত মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করবেন ৷ সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এ বিষয়গুলো সমাধান করা হয়, তা ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখতে আমরা বিশ্বের লাখ লাখ উদ্বিগ্ন নাগরিকদের সঙ্গে শামিল হবো।







