রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলের দুই রুটে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার স¤পদ। কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব ও অবহেলায় গাইবান্ধার বোনারপাড়া-তিস্তামুখঘাট ও ত্রিমোহনী-বালাসীঘাট পরিত্যক্ত দুই রেলপথে মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। খুলে নেওয়া হয়েছে রেললাইনের স্লিপার, ফিসপ্লেট, নাট-বল্টু। চুরি হয়ে যাচ্ছে রেলপথের ই¯পাতও। অনেক স্থানে পথ দখল করে ঘর, দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৩৮ সালে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপনে ব্রিটিশ সরকার গাইবান্ধার ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রে রেলফেরি সার্ভিস চালু করে। সেই সময় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন থেকে ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। ১৯৯৭ সালে নদীর নাব্য সংকটে গাইবান্ধা অংশে ফেরি সার্ভিসটি ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একই উপজেলার বালাসীঘাটে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী স্টেশন থেকে বালাসীঘাট পর্যন্ত নতুন করে রেলপথ নির্মাণ করা হয়। বালাসীঘাট চালুর পরপরই ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন থেকে যান চলাচলের জন উন্মুক্ত করা হয় বঙ্গবন্ধু সেতু। এরপর থেকেই বালাসীঘাটের গুরুত্ব কমতে শুরু করে। ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য হ্রাসের কারণে ২০১৬ সাল থেকে বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ রুটে রেলওয়ের ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে তিস্তামুখ ফেরিঘাটও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বন্ধ ঘোষণা করে যাত্রী পারাপার ব্যবস্থার চূড়ান্ত ইতি টানা হলে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার মানুষ যমুনার পূর্বপাড়ের জামালপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও শেরপুরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। পর্যায়ক্রমে এ রেলরুট দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার রেলপথ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নজরদারির অভাবে চুরি হয়ে যাচ্ছে রেললাইনের ই¯পাত। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে রেলের কোটি কোটি টাকার স¤পদ। গাইবান্ধার বোনারপাড়া-তিস্তামুখঘাট ও ত্রিমোহনী-বালাসীঘাট রেলপথে দেখা যায়, রেলপথের অসংখ্য স্থানে কাঠের সিøপার পচে নষ্ট হয়ে গেছে। রেললাইনের নিচের মাটি ক্ষয়ে সরে গেছে। বেশ কিছু স্থানে মরিচা পড়েছে রেললাইনে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বালাসীঘাট ও আনন্দবাজার রেলস্টেশনের টিনের তৈরি ঘর ও অন্যান্য সরঞ্জাম। তিস্তামুখঘাট, ভরতখালী রেলস্টেশন, ত্রিমোহিনী-বালাসী রেলপথে শুধু রেললাইন ছাড়া আর কিছুই নেই। চুরি হয়ে গেছে ফিসপ্লেট, নাট-বল্টু, স্লিপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মালামাল। বেশিরভাগ রেললাইন মাটির নিচে চাপা পড়েছে। অনেক জায়গায় জঙ্গলে ঢেকে গেছে লাইন। রেলপথের মাঝে বিভিন্ন জায়গা থেকে রেললাইনের ই¯পাত কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বেহাত হচ্ছে রেলের কোটি কোটি টাকার ভূমি। বালাসীঘাট সংলগ্ন এলাকায় লাইনের ওপর ঘরবাড়ি স্থাপন করেছে ২ শতাধিক পরিবার। ফুলছড়ি উপজেলার মধ্য কঞ্চিপাড়া গ্রামের সিজু মিয়া বলেন, একসময় রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা এবং ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইল এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করত বালাসী ও তিস্তমুখঘাট দিয়ে। তাতে সময় ও খরচ দুটিই কম হতো। রেলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। অথচ বালাসীঘাটের রেলপথ অবহেলায় পড়ে রয়েছে। নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার স¤পদ। এসব রাষ্ট্রীয় স¤পদ রক্ষার্থে কারো কোনো উদ্যোগ নেই। অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে রেলের স¤পদ। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে রেল মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রিমোহনী-বালাসীঘাট লাইন ভেঙ্গে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরানোর আদেশ দেওয়া হয় এবং বালাসীঘাটের মেরিন বিভাগের সব ফেরি ও ইঞ্জিন নিলামে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। মেরিন বিভাগ ইতোমধ্যে ফেরি ও ইঞ্জিন নিলামে বিক্রির কাজ শেষ করেছে। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগ ত্রিমোহনী-বালাসীঘাট লাইনের মালামাল তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে না। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের আওতাধীন গাইবান্ধার রেলপথ দুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মাজেদুল ইসলাম মোবাইল বলেন, বোনারপাড়া-তিস্তামুখঘাট রেলপথ দেখভালের জন্য একজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তারপরও কিভাবে চুরি যাচ্ছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া ত্রিমোহনী-বালাসীঘাট রেলপথ উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চল রাজশাহীতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে রেলপথটি গুটিয়ে নেওয়া হবে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







