এমডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষা উপজেলা বিরামপুর। আজ (২৮ সেপ্টেম্বর-২৩) বিরামপুর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত উপ-কারাগারটি শহরের মহাসড়কের ফুলবাড়ি বাসষ্টানের উত্তরে পূর্বে ও বিরামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দক্ষিণে অবস্থিত।
সরজমিনে জানা যায়,এই উপজেলা উপ-কারাগারটি ১৯৮১ সালে সরকারিভাবে থানাগুলোকে উপজেলায় রূপান্তর করা হলে সেই সময়ে প্রতিটি উপজেলা আদালতে বিচারকার্য চালু হয়।
২.৮ একর জমির ওপর ১৯৮৪ সালে জেলা শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরবর্তী জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের বিরামপুর,ফুলবাড়ী,নবাবগঞ্জ,হাকি
উপ-কারাগারের জনবল প্রত্যাহার করলে দেশের অন্যান্য উপ-কারাগারের মতো এটিও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। সরকারিভাবে পাহারার ব্যবস্থা না থাকায় বিরামপুর উপ-কারাগারটির ভৌতিক অবকাঠামোর অবক্ষয় হতে চলেছে। দীর্ঘ ২৮ বছরে পরিত্যক্ত বিরামপুর উপ-কারাগারটি এখন মাদকসেবী ও বখাটেদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অযত্ন,অবহেলা ও তদারকির অভাবে কারাগারটির দরজা,জানালা চুরি হয়ে গেছে। অনেক বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকায় উপ-কারাগারের ভেতরের অংশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বাইরের দেয়ালে স্থানীয় হতদরিদ্র মহিলারা ঘুটির লেবদা বসিয়ে নোংড়া চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা এমন কোন সময় নেই যে,পরিত্যক্ত জেলখানার ভেতরে বসে নিরাপদ স্থান মনে করে চলছে অনাবাদে মাদকসেবন ও বিক্রয়ের চিত্র। নেই কেউ বাধা নেই প্রকাশ ঝামেলা একেবারেই মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রয়ের মুক্ত স্হান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্শ্ববর্তী বাড়ির এক মালিক বলেন,কতবার প্রতিবাদ করতে গিয়েছি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি।
এবিযয়ে পুলিশ অভিযোগ পেলে চলে আসে কিন্তু পরক্ষণেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
প্রতিবেশী নরেশ মার্ডি তার ফ্রেসবুকে লেখেছেন,আমাদের বিরামপুর অনেক ঝুঁকিতে আছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুবসমাজ রক্ষার্থে পুরাতন জেলখানাটি ভেঙে ফেলা খুবই জরুরি। উঠতি বয়সের অনেক তরুণদের ভেতরে আসা-যাওয়া প্রতিদিন বিচরণ করে থাকে। উক্ত বিষয়ে প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে আমাদের সকলকেই এর দাম চুকাতে হবে। এবিযয়ে স্থানীয় জনসাধারণ আরও বলেন,
প্রতিদিন যেভাবে নেশাখোরের সংখ্যা বাড়ছে বাব-মা সচেতন না হলে এর প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন আছে বলে মনে স্হানীয় জনতা। ঝোপঝাড়ে ছেয়ে রূপ নিয়েছে ভূতের বাড়িতে। সন্ধ্যা নামলেই বখাটে ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে থাকে। ক্রমান্বয়ে দরজা-জানালা,ইট চুরি হয়ে হচ্ছে।এবিষয়ে বিরামপুর উপ-কারাগারের দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বলেন,
এই উপ-কারাগারটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ২০০৩ সালে। এ রকম সারা দেশে মোট ২৫টি উপ-কারাগার রয়েছে। তার মধ্যে ২১টিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও দুটি মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এখানে শিশু,কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্র হবে এখনও সে রকম দিকনির্দেশনা পাইনি। তবে শুনেছি শেখ রাসেল শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তাব হয়েছে। তিনি আরও বলেন,এই পরিত্যক্ত উপ-কারাগারটিতে জুয়া খেলা ও মাদক সেবন করা হয়ে থাকে তাই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীদের রাখা হয়েছে বলে জানান। এবিষয়ে স্হানীয় জনসাধারণ অতি শীঘ্রই উক্ত পরিত্যক্ত উপ-কারাগারটির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উপর জোর দাবি জানান।








