ঢাকা কলেজে দুই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ছয় ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয়ছাত্রলীগ। আজ শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে সংগঠনবিরোধী, শৃঙ্খলা পরিপন্থী, অপরাধমূলক এবং সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে রাউফুর রহমান সোহেল (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা কলেজ শাখা), এ বি এম আলামিন, সজিব আহসান, আবরার হোসাইন সাগর কর্মী, সৈয়দ আব্দুল্লাহ শুভ ও ফাহমিদ হাসান পলাশকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ রিডিং রুমে পড়াশোনা করছিলেন। একই সময়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের ছাত্রলীগের কর্মীসভা বাস্তবায়ন করতে গেস্টরুমে আলোচনা শুরু করেন শহিদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাসের নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত হতে দেরি হওয়ায় রাত সোয়া ১২টার দিকে ফয়সালকে ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন হলের ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন, লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন সজিব আহমেদ এবং বালিশ দিয়ে চেপে ধরে মারতে থাকেন ইকরাম। এতে ফয়সালের ঠোঁট ফেটে যায় এবং কানেও প্রচণ্ড ব্যথা পান।
ওই ছাত্রকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে ছাত্রলীগ নেতারা বলতে থাকেন, ‘হলে থাকলে কিসের সাংবাদিকতা, সাংবাদিকতা করতে হলে হলের বাইরে গিয়ে কর, সাংবাদিক বলে ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম করবা না তা চলবে না।’
ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ফয়সাল আহমেদ ঢাকা কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্য এবং ডেইলি বাংলাদেশ ও প্রতিদিনের ক্যাম্পাসের কলেজ প্রতিনিধি।
পরিদন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা কলেজের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে ওবায়দুর সাঈদ নামে আরেক সংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও অনলাইন পোর্টাল বাংলাট্রিবিউনের ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি। কলেজ সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ওবায়দুর সাঈদ বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের ছাত্রলীগ নেতা রাউফুর রহমান ওরফে সোহেলের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয়। বুকে লাথি, এলোপাতাড়ি চড়থাপ্পড়ের পর শক্তি প্রয়োগ করে তার মোবাইলেল লক খুলতে বাধ্য করা হয়। পরে ফোন থেকে ‘ডিসিয়ান সংবাদকর্মী’ ও সাংবাদিক সমিতির গ্রুপের সব বার্তা স্ক্রিন রেকর্ড করে নেন রাউফুর। বাধা দিতে গেলে তার রুমমেটদেরও মারতে উদ্যত হন রাউফুর। একপর্যায়ে তাকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন তিনি। ১৫ ঘণ্টা আটকে রাখা ও নির্যাতনের পর শুক্রবার দুপুরের দিকে তাকে অধ্যক্ষের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে যান। তিনি ফোন ফেরত পেয়েছেন শনিবার দুপুরের পর।
তিনি আরও জানান, ‘গেস্টরুমে’ না যাওয়ায় গত বুধবার রাতে আরেক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ফয়সাল আহমেদকে ঢাকা কলেজের হলে মারধর করেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের একদল কর্মী। এ নিয়ে প্রতিবেদন করায় ছাত্রলীগ নেতা রাউফুর রহমানের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয়।








