আপনারা হয়তো ভাবেন casual sex মানে অপরিচিত মাহিলা বা পুরুষদের সঙ্গে সেক্স করা পাশ্চাত্য সভ্যতার উদ্ভাবনা। কিন্তু জানলে অবাক হবেন মুসলিম বিশ্বে casual sex কয়েক শত শত বছর ধরে চলে আসছে “নিকাহ মুত’আহ” বা “মুতা বিবাহ” এর নামে। তাহলে ভাবছেন casual sex নিয়ে মুসলিমদের এত এলার্জি কেনো। এলার্জি casual sex নিয়ে নয়। বিবাহের নামে মুসলিম পুরুষরা casual sex করেই থাকে । এদের সমস্যা টা হলো নারীরা কেন casual Sex করবে? যৌনতা উপভোগে করার অধিকার আল্লাহ শুধু পুরুষদেরই দিয়েছেন। পুরুষরা যৌনতা উপভোগ করল ধর্ম ও সমাজের কিছু হয় না। কিন্তু নারীরা যৌনতা উপভোগ করলে ধর্ম ও সমাজ নষ্ট হয়ে যায়। এটাই এদের বিশ্বাস।
দেখা যাক বিবিসির অনুসন্ধান এ আর কি কি পাওয়া গেছে। একজন বিবাহিত ব্যক্তি যিনি অপরিচিত নারীদের সাথে সহবাস করার জন্য আলেমদের মাধ্যমে নিয়মিত অস্থায়ী বিবাহ ব্যবহার করে থাকেন, তিনি বিবিসিকে বলছিলেন: “১২ বছর বয়সের এক শিশুর দাম অনেক বেশি কারণ সে এখনও নিখুঁত। তার জন্য অনেক খরচ করতে হবে- ৫০০, ৭০০ এমনকি ৮০০ ডলার-শুধুমাত্র ওই ধর্মীয় নেতাকেই দিতে হবে।”
তিনি বিশ্বাস করেন যে তাঁর এমন আচরণকে ধর্মীয় আচ্ছাদনে বৈধতা দেয়া হয়েছে: “যদি কোনও ধার্মিক লোক আপনাকে বলেন যে অস্থায়ী বিবাহ হালাল, তবে এটি পাপ হিসাবে গণ্য হবে না।”
নারী অধিকার কর্মী ইয়ানার মোহাম্মদ, যিনি পুরো ইরাক জুড়ে নারীদের আশ্রয়ের একটি নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন, বলেছেন যে মেয়েদেরকে মানুষের চেয়ে বরং ‘পণ্যদ্রব্য’ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তারা এই মেয়েদের নির্দিষ্ট উপায়ে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে তারা কুমারীত্ব টিকিয়ে রাখছে ভবিষ্যতে বড় ধরণের ব্যবসা করার জন্য,” তিনি বলেন। ‘বড় ধরণের ব্যবসা’ বলতে তিনি বিয়েকে বুঝিয়েছেন।
যেখানে একটি মেয়ের কুমারীত্ব হারিয়ে গেলে, তাকে বিবাহের অযোগ্য হিসাবে দেখা হয় এমনকি সে তার পরিবারের জন্য অসম্মান বয়ে আনার কারণে নিজ পরিবারের দ্বারা হত্যার ঝুঁকিতেও থাকে। তিনি বলেন, “সব সময় মেয়ে এবং নারীদেরই এর মূল্য দিতে হয়।”
ডকুমেন্টারি নির্মাতারা এই ধর্মীয় নেতাদের সাথে কথোপকথন গোপনে ক্যামেরায় রেকর্ড করেন যেখানে তারা বলেছিল যে তারা অল্প বয়সী মেয়েদের সরবরাহ করতে রাজি আছে।
বিবিসির এই দলটি একজন ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যও নিয়েছিলেন, যিনি অভিযোগ করেছেন যে তাকে একজন ধর্মীয় নেতাই এই দেহ-ব্যবসায় ঠেলে দিয়েছে। এবং তার সাক্ষ্যের প্রতি অন্যান্যরাও সমর্থন জানিয়েছে।
দলটি গোপনে এমন একজন আলেমকে ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন যিনি ছদ্মবেশী প্রতিবেদকের সামনে একজন তরুণীকে ২৪ ঘণ্টার সম্ভাব্য অস্থায়ী বিয়ের জন্য হাজির করেছিলেন। এখানে মূলত ওই ধর্মীয় নেতা দালালের ভূমিকা পালন করছিলেন।
ছদ্মবেশী প্রতিবেদক যখন অস্থায়ী বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান, তখন ওই ধর্মীয় নেতা বলেন যে তিনি তার কোনও কিশোরী মেয়ের সঙ্গে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন কিনা। সেক্ষেত্রে তিনি তেমন কাউকে খুঁজে বের করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি মুসলিম বিশ্বের বহু ধর্মীয় নেতা অবশ্য “নিকাহ মুত’আহ” বা “মুতা বিবাহ” এর নামে এই পতিতা বৃত্তি কে নিন্দা করেছেন। যে রকম টা দেখা যায় মুসলিম বিশ্বের বাকি ক্ষেত্রে।
তথ্য সূত্র:








