এম,ডি রেজওয়ান আলী বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি-দিনাজপুর বিরামপুরে”সমবায়ে গড়ছি দেশ স্মার্ট হবে বাংলাদেশ”এই প্রতিপ্রাদ্য বিষয় নিয়ে দিনাজপুর বিরামপুরে এক বর্ণাট্র্য রেলি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। আজ (৪ নভে:) দিনাজপুর বিরামপুরে
যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে। বিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ও এক বর্ণনাট্য রেলি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসমা বানুর সঞ্চালনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনিম আওনের সভাপিত্তে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বিরামপুর পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র অধ্যক্ষ আক্কাস আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) মুরাদ হোসেন,বিরামপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অদ্বৈত কুমার অপু,বিরামপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মেজবাউল হক,মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার,বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আকরাম হোসেন,সমবায় অফিসার রাকিবুল হাসান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফিরোজ আহমেদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুলচন্দ্র সরকার সহ প্রমুখগণ। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গন সুধীজন ৩ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সমবায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পৃথক বাণী দিয়েছেন। উল্লেখ্য,প্রায় আড়াই’শ বছরের পথ যাত্রায় সমবায় আজ সারা বিশ্বের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ সমবায়ের সদস্য। দি ওয়ার্ল্ড কো-অপারেটিভ মনিটর এর প্রতিবেদন অনুযায়ী,সারা বিশ্বে প্রায় ৩ মিলিয়ন কো-অপারেটিভ কার্যরত রয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ ভূখন্ডে অবশ্য সমবায়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯০৪ সালে বৃটিশ শাসনামলে। সে হিসেবে বাংলাদেশ সমবায় আন্দোলনে ১১৯ বছর অতিক্রম করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক বিলম্বে সমবায়ের কার্যক্রম সূচনা হয়। সমবায় অধিদপ্তরের সর্বশেষ আপডেটকৃত (মার্চ-২০২৩ পর্যন্ত) তথ্য অনুযায়ী,সারাদেশে মোট নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সংখ্যা প্রায় ১৯১৩৯৬ টি। এর মধ্যে প্রাথমিক সমবায় সমিতির সংখ্যা ১৮৯৯৩৪ টি। কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সংখ্যা ১,২০৮ টি এবং জাতীয় সমবায় সমিতির সংখ্যা ১১ টি । সমবায় সমিতি সমুহের ব্যক্তি সদস্য সংখ্যা প্রায় ১২২৪২২২২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৯২৬৮৫৭৭ জন ও মহিলা ২৯৭৩৬৪৫ জন। মোট সম্পদের পরিমান ৯৪৪০৮৯.০১ (লক্ষ টাকায়) টাকা। ঋণ বিতরণ ২১২১১৪৪.২২ টাকা। অংশগত মুলধন ২১৩৯০৬.০৫ টাকা।সঞ্চয় আমানত ১৩৭৩৬৮৩.৯৪ টাকা। সংরক্ষিত তহবিল ১০৩৯৭৯.৭০ টাকা। কার্যকরি মুলধন ২১৬৭৮৯৪.২৭ টাকা। সমবায়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে ১১২৩৩৪৪ জনের। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে,সমবায় অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর নিবন্ধিত সমিতির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
তাছাড়া,সমবায় অধিদপ্তরের উপরোক্ত সমিতির সংখ্যাগত পরিসংখ্যান অনেকটা “কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেই ”প্রবাদ বাক্যের মত। কেননা,বিআইডিএস এর প্রায় দেড় দশক আগের গবেষনা প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত সমবায় সমিতি সমুহের ৫৩ শতাংশেরই অস্তিত্ব নেই । বর্তমানে অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। আবার বিদ্যমান সমবায় সমিতির মধ্যে কিছু সাইনবোর্ড সর্বস্ব টিকে আছে। কোনটা আবার খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। কিছু সমিতি অবশ্য স্বমহিমায় টিকে আছে। নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আসলে এটি একটি ক্রমক্ষয়িষ্ণু খাত। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে সমবায়কে সম্পদের মালিকানার তৃতীয় খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তবে মুক্ত বাণিজ্যের যুগে রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও ব্যক্তি মালিকানা খাতের তুলনায় সমবায় খাতের খুবই বেহাল দশা। বলা আবশ্যক বাংলাদেশে দুই ধারার সমবায় ব্যবস্থা বিদ্যমান। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা মুলধারার সমবায় এবং ব্যাক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিকল্প ধারার সমবায়। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সমবায় এক সময় দেশে দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে । দেশের কৃষি সমবায় ছিল বিশ্ব সমবায় অঙ্গনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মত। ‘‘সেইদিন আর নাইরে নাতি গৃহে এখন আর জ্বলেনা বাতি ”কৃষি সমবায়ের অবস্থা এখন এমনই। বিআরডিবি’র আওতাধীন কৃষক সমবায় সমিতির অধিকাংশেরই এখন অস্তিত্ব নেই। ইউসিসিএগুলোর নিজস¦ সম্পদ থাকায় এবং সরকারী কিছু অর্থ সহায়তা থাকায়-এখনো অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। অনুরুপ সরকারী স্যালারী সাপোর্ট ও অনুদান থাকায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের অফিসে এখনো আলো জ্বলে। অথচ বাংলাদেশে এখনো কৃষি সমবায়ের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। সরকারি আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করে সারা দেশে বিদ্যমান ইউসিসিএ সমুহের স্থাপনা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।







