বরগুনা: ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে পিটিয়ে কামড়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বুধবার (২২ নভেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে এক গৃহবধূ। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের দাবি মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করায় সম্মান নষ্ট করতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা জজ মো: মশিউর রহমান খান মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ সুপারে কার্যালয়ে পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তাকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামী হলো, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক। তার সহযোগী দক্ষিন টেপুরা গ্রামের খোকন মল্লিকের ছেলে বাহাদুর মল্লিক, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের সেলিম মল্লিকের ছেলে সোহেল মল্লিক ও মোসলেম প্যাদার ছেলে হানিফ প্যাদা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
জানা যায়, আসামীদের গ্রামের গৃহবধূ বাদী হয়ে ওই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন। তার পাশের বাড়ি জনৈক সোহরাব প্যাদার বন্ধু হওয়ায় চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক প্রায়ই তার বাড়িতে আসা যাওয়া আসা করে। আসা যাওয়ার পথে চেয়ারম্যান গৃহবধূকে দেখলেই নোংরা ভাষায় কথা বলে। নোংরা আকার ইঙ্গিত করে। এর প্রেক্ষিতে অশ্লীল কথা বার্তা বললে অপমান করে দেব এমন কথা চেয়ারম্যানকে জানালে এতে চেয়ারম্যান প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে।
চেয়ারম্যান গৃহবধূকে জানিয়ে দেয় এই অপমানের প্রতিশোধ তিনি নিবেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ নভেম্বর বিকালে গৃহবধূ তার বসত ঘরের সামনে বাহির থেকে রোদে দেওয়া কাপড় ঘরে উঠাতে ছিল। এমন সময় আসামী খোকন মল্লিক মোটর সাইকেল নিয়ে গৃহবধূর ঘরের সামনে এসে বলে ভাবী ভাই কোথায়। প্রতিউত্তরে গৃহবধূ বলেন তিনি মাঠে কাজ করতে গেছেন। একটু পরে চেয়ারম্যান গৃহবধূর ঘরে এসে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করার চেস্টা করে। গৃহবধূ বাধা দিলে চেয়ারম্যান তার পরিহিত কাপড় টেনে খুলে ফেলে। দুইজনের ধস্তাধস্তিতে চেয়ারম্যান ধর্ষণে ব্যর্থ হলে তার সঙ্গীদের সহযোগিতায় গৃহবধূকে পিটিয়ে কানে বুকে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গৃহবধূ বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান ধর্ষণ করতে না পেরে আমার পায়ে হাতে পিটিয়েছেন। আমার বুকে ও ডান কানে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করেছেন। আমি ও আমার স্বামী সিদ্দিক চিকিৎসা ও মামলা করার জন্য তক্তাবুনিয়া বাজার হয়ে আমতলী আসার সময় আবার চেয়ারম্যান ও তার ওই তিন সঙ্গী আমাকে ও আমার স্বামী সিদ্দিককে পিটিয়ে জখম করে। আমি ৪ দিন আমতলী ও পটুয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরে মঙ্গলবার আমতলী থানায় মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজি শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কেহ মামলা করতে আসেনি।
চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, গৃহবধূর যে অভিযোগে মামলা করেছে তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। তবে গৃহবধূর স্বামী মাদক ব্যবসা করে সেজন্য আমি রাগারাগি করেছি। তবে শুনেছি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়েছে। সেই ঘটনাকে সাজিয়ে আমার সম্মান নস্ট করার জন্য কারো বুদ্ধিতে হয়তো মামলা করতে পারে। এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ করলে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসবে।
এব্যাপারে বরগুনা জেলা পুলিশের পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা সিনিয়র ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ সোনালীনিউজকে বলেন, আদালতের আদেশের কপি আসলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







