বায়েজিদ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা -৩ (সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী) আসন থেকে জাতীয়পার্টির তিনজন মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পেলেন মইনুর রাব্বী চৌধুরী রুমান।
সোমবার বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বনানী কার্যালয় চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা গাইবান্ধা ৩ আসনের জন্য তার নাম ঘোষনা করেন।
মইনুর রাব্বি চৌধুরী রুমান জাতীয়পার্টির সাবেক মন্ত্রী এবং এ আসনে ৬ বারের এমপি প্রয়াত ও ড.টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর ছেলে ও জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য পদে আছেন।
প্রসঙ্গত, এক সময় গাইবান্ধা ৩ আসনটি জাতীয় পার্টির দুর্গ ছিল। টানা ছয়বার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন রুমানের বাবা প্রয়াত ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি।
সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি হাত ছাড়া হয় জাতীয় পার্টির। গত এক দশক ধরে আসনটির দখল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের হাতে। এবার দ্বাদশ নির্বাচনে দুর্গ পুনরুদ্ধারে নিজেদের পরীক্ষিত নেতার উত্তরসূরির ওপরই ভরসা করেছে জাতীয়পার্টির হাইকমান্ড।
উল্লেখ্য,
১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে পর্যায়ক্রমে ৬ (ছয়) বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র সাংসদ যিনি কেবলমাত্র বিরতিহীনভাবে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসন হতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি হাঁস-মুরগীর সংক্রামক মরণব্যাধি “রাণীক্ষেত” রোগ নিরসনে নতুন ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে রাণীক্ষেত রোগের প্রকোপ কমে গেছে। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলায় তার পিতার নামে আহসান উদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। গাইবান্ধা আদর্শ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। হরিণাথপুরে ড. ফজলে রাব্বি দাখিলী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, ব্রীজ-কালভার্ট ও স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির প্রভূতি নির্মাণ-পূণ:নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ নি:স্ব গরীবদের সাহায্য প্রদান, গৃহহীনকে গৃহ নির্মাণে ঢেউটিন প্রদান, শীতবস্ত্র দানসহ জনকল্যাণমূলক কাজ করার সাধ্য মতো চেষ্টা করছেন। জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ “জাতীয় ব্যক্তিত্ব স্মৃতি পরিষদ” কর্তৃক ২০০৫ সালে সাবেক মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার স্মৃতিপদক লাভ করেন।
তিনি বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্র হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, জর্ডান, মিশর, ওমান, সৌদি আরাবিয়া, জার্মানি, অস্ট্রোলিয়া, কানাডা, আলজেরিয়া এবং আমেরিকাতে পার্লামেন্টে ডেলিগেট হিসেবে গমন করেন।
পারিবারি জীবনে তিনি ৩ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক। বাংলাদেশের উত্তর জনপদের বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সমাজসেবক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. টি.আই.এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী ১৯৩৪ সালে ১ অক্টোবর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এ্যানিম্যাল হ্যাজব্যনটিতে ২য় স্থান অধিকার করে বি.এস.সি (অনার্স) ডিগ্রী লাভ করেন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে আমেরিকা সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৬৩ সালে টেকসাস এন্ড এস হতে এম.এস.সি এবং ১৯৬৫ সালে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে এ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে এসোসিয়েট প্রয়েসর হিসেবে এবং ১৯৬৯ সালে প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এছাড়াও ডীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি উলফসন কলেজের ফেলো নির্বাচিত হন।
ড. রাব্বী একজন সদালাপী ও স্বাধীনচেতা মানুষ। ১৯৮৪ সালে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এইচ.এম এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপাতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তী সময় তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রী, ত্রাণ ও পূনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. ফজলে রাব্বী ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ এর দায়িত্ব পালন করেন। সভাপতি সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি, কৃষি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন।