পেশার প্রয়োজনে একজন খারাপ মানুষের সাথে কাজ থাকতে পারে, পাশাপাশি বসতে হতে
পারে কিংবা হুকুম মানা লাগতে পারে কিন্তু জীবনের আয়োজনে মন্দ মানুষের প্রতি
অন্ধ হওয়া উচিত নয়। যে পথ দু’পায়ের সেটুকু চলায় কেউ না থাকলেও কাটে, কেউ কাঁধে
হাত না রাখলেও চলে কিন্তু যে যাত্রা অনন্তলোকের সন্ধান দিবে সেখানে বিশ্বাস
থাকতে হয়, ভরসা করার মানুষ লাগে। কেউ ঠকালে, সুযোগ নিলে কিংবা স্বার্থ আদায়
করলে তাকে বয়কট করে একা একা চিনাবাদাম চিবানোও মন্দ নয়! বন-বাঁদাড়ে একা
একা ঘুরে ঘুরে গান গাইলে, পাখির কলরব শুনলেও শান্তি লাগবে। যেখানে দুশ্চিন্তা হয়,
ঘুম উড়ে যায়, চোখের পানি ঝরায়, শরীরে ব্যথা লাগায়, মনে মলম লাগানোর আয়োজন
করে সেখানে নিজেকে না জড়ানোয় মঙ্গল থাকে। অঙ্গ দিয়ে মানুষকে ধরে রাখা যায় না।
মোহময় ভালোলাগা থাকতে হয়। সবচেয়ে বেশি থাকতে হয় বিশ্বাস।
একজন আন্তরিক বস, সুহৃদ সহকর্মী জীবনের জন্য আশীর্বাদ। তবে এরা মন্দ হলেও
জীবনে সন্ধ্যা নামে না! তবে যার সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি হয়, জমানো কথা শোনানো
হয় সেখানে ঠাঁই না হলে, আশ্রয় না পেলে তবে দুঃখের অন্ত নাই। দু’জনে ভাগাভাগি
করার মত অফুরন্ত সময় থাকে। সে সময় পঁচে গেলে, কথা জমে গেলে সম্পর্ক থেমে
যায়। এমন কিছু অনুভূতি আছে, এমন অনেক ভালোলাগা থাকে যা প্রিয় মানুষের সাথে
শেয়ার করতে না পারলে অন্তর প্রশান্তি আসে না। চাঁদ দেখা, জ্যোছনায় ভেজা, বৃষ্টি
ছোঁয়া-এসব সহকর্মীর সাথে মানায় না। সহমর্মীর জন্য তুলে রাখতে হয়। সমুদ্র দেখা,
পাহাড়ে চড়ায় হাতের মধ্যে আরেকটি হাত থাকতে হয়। সুতরাং যে যার সে যদি তার না
হয় তবে সে ব্যথা পাহাড় হয়ে কলিজায় ধাক্বা মারে। হৃদয় খুঁড়ে ব্যথা তোলে!
মন্দ মানুষের সঙ্গ থেকে অঙ্গ বিরত থাকুক। যে মন বিষিয়ে দেয়, কান তাতিয়ে দেয়,
মেজাজ রাগিয়ে দেয় তার জন্য জেগে থাকায় ফল আসে না। এমন আচরণ শুধু
উচ্চরক্তচাপ আর খিটখিটে মেজাজের মালিক বানাতে পারে। কর্মপরিবেশের যা কিছু
মন্দ তা যেনো নিজের ঘর-বারান্দায় প্রবেশ করতে না পারে। বাইরের রোষ-আক্রোশের
খেসারতে যেন পারিবারিক শান্তি নষ্ট না হয়, কলহ না বাড়ায়। হরেক মানুষের সাথে
দেখা হবে, অনেকের সাথে উঠাবসা করতে হবে সেখানে বিচিত্র বৈচিত্র্যের অভিজ্ঞতা
হবে। কখনো মন ভালো হবে আবার কখনো মন খারাপের রসদ পাবে! খারাপ কিছু যেন
জীবনের সাথে মিশে প্রিয়জনদের সুন্দর সময়ে হানা না দেয়! আপন মানুষদের জন্য
বাহির থেকে ভালোটুকু গ্রহন করলে তবেই অপেক্ষাকারীকে মনোহর সময়, মধুর সঙ্গ
উপহার দেয়া যাবে। ভালোর যতটুকু আলো ছড়ানো যাবে ততটুকু দ্যুতি ফেরত আসবে!
অপরকে বিশ্বস্ত পেতে নিজেকে বিশ্বস্ত রাখতে হবে। কেউ যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করে,
ভরসা নষ্ট করে তবুও প্রতিশোধের জন্য বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করা ঠিক নয়। কারো জন্য
নিজের বিশ্বাস ভাঙলে ক্ষতিটা নিজের। নিজেকে অপরাধে জড়িয়ে ফেলতে হয়। ন্যায়-
অন্যায় যাইহোক প্রতিশোধ কখনোই মঙ্গল আনে না। প্রত্যেক প্রতিশোধ
ধ্বংসাত্মক। সাময়িক তৃপ্তি দিতে পারে, বিজয়ের উল্লাসে পুলকিত করতে পারে কিন্তু
পরিনামে একপক্ষে মনখারাপ হয়। সব সময় যোগ্যতার প্রতিযোগিতায় থাকতে হবে তবে
প্রতিশোধে নয়। যতটুকু পারা যায় মন্দের সঙ্গ ততটুকু এড়িয়ে চলতে হবে। একান্ত
বাধ্য না হলে খারাপ মানুষ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কখনো কখনো
একলা থাকতে হবে, নিজের কথা শুনতে হবে এবং নিজের জন্য গাইতে হবে। সুন্দর
জীবনের জন্য সুন্দর মনের ধারক ও সঙ্গী হতেই হবে। সুন্দর মানুষের চেয়ে সুন্দর
স্বভাবের মানুষ বড্ড জরুরি।
রাজু আহমেদ। কলাম লেখক।
raju69alive@gmail.com






