গত দশ বছরে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, এই সময়ে তার সম্পদ বেড়েছে সাড়ে ছয় গুণ। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ আসনে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী তিনি। নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সিংড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-৩ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য পলকের এবারের হলফনামায় পেশার ঘরে লেখা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তবে এ পেশা থেকে কোনো আয় তিনি দেখাননি।
সব মিলিয়ে তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩২ লাখ ২২ হাজার ২৬৮ টাকা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া তার হলফনামায় মোট আয় দেখানো হয়েছিল ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫২ টাকা। অর্থাৎ, দশ বছরে তার আয় বেড়েছে ১.৮ গুণ।
পলকের হলফনামা বলছে, তার আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ, ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আসে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া বেতন থেকে। ব্যাংকে রাখা টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র থেকে তার আয় হয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬৪ টাকা। এছাড়া কৃষিখাত থেকে ৪৮ হাজার টাকা এবং বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ বছরে ৬০ হাজার টাকা পান প্রতিমন্ত্রী। টেলিভিশনে টকশো করে তার আয় হয় ২ লাখ ২ হাজার টাকা।
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি টকশো করতেন, তখন এ কাজে তার আয় হত বছরে ২০ হাজার টাকা। এমপি হিসেবে বেতন বাবদ পেতেন বছরে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংকে জমা টাকা, সঞ্চয়পত্র আর শেয়ার থেকে পেতেন দেড় লাখ টাকার বেশি। তখন তার ব্যবসাও ছিল, আয় হত বছরে এক লাখ টাকা।
এছাড়া কৃষি থেকে ৪২ হাজার টাকা এবং বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া বাবদ ৬০ হাজার টাকা পেতেন। অর্থাৎ বাড়িওয়ালা হিসেবে তিনি গত দশ বছরে এক টাকাও ভাড়া বাড়াননি।
দশম সংসদ নির্বাচনের আগে পলকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬৬ লাখ ৪৩ হাজার ২৬ টাকা। দশ বছরে সেটা বেড়ে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি হয়েছে। তার মানে, আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬.৬১ গুণ।
বর্তমানে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার হাতে নগদ রয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৪১ হাজার ১১২ টাকা। এছাড়া ১০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ১১ লাখ) আছে তার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পলকের জমা আছে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫০ টাকা, বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে ৯৫ লাখ ২৯ হাজার ৫১৫ টাকা।
২০১৪ সালের আগে পলকের হাতে নগদ দুই লাখ, ব্যাংকে ৪ লাখ ৬১ হাজার এবং শেয়ারে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ছিল। তখন তার একটি গাড়ি ছিল, যার দাম ছিল সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা। এখন তিনি এক কোটি টাকার একটি জিপের মালিক।
এবারের হলফনামায় ১৪ হাজার টাকার স্বর্ণ, ১ লাখ ২ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দামের শটগান ও পিস্তল থাকার তথ্যও পলক দিয়েছেন।
তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ২ দশমিক ৪৩ একর কৃষিজমি, ৩৬ লাখ টাকার ০.৫০ শতাংশ অকৃষি জমি ও পূর্বাচলের প্লট। স্ত্রীর বাড়ি বানাতে তিনি ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। ৪ শতাংশ জমির ওপর পৈত্রিক বাড়ি, নিচতলায় চারটি দোকান ও গুদামের মালিকও এখন তিনি। এই সম্পত্তির দাম তিনি দেখিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা।







