ফিলিস্তিনিদের লাশগুলোও ইসরায়েলি বর্বরতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। কারণ, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্ব গাজার কবরস্থানে বুলডোজার দিয়ে মাটি খুঁড়ছে এবং মৃতদের লাশ পিষে ফেলছে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, ‘ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর বুলডোজারগুলো পূর্ব গাজার আস-সাহা পাড়ায় শেখ শাবান কবরস্থান ধ্বংস করেছে।’সেখানে মৃতদের লাশ বের করে বুলডোজারের নিচে পিষে ফেলা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এর আগেও ফিলিস্তিনিদের কবরস্থানগুলোকে বুলডোজ দিয়ে বিধ্বস্ত করে ফেলেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে কবর ধ্বংস করছে। ফিলিস্তিনিদের লাশগুলোও উত্তোলন করছে এবং তারপর সেগুলোকে বিকৃত করেছে।
ফিলিস্তিনিদের কবরস্থানগুলোর চারপাশে শিশু এবং সাধারণ মানুষের মৃতদেহের অংশবিশেষ স্পষ্ট দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর প্রায় দুই মাস ধরে ইসরায়েল পাশবিকতা চালিয়ে গেলেও কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত তেল আবিবকে আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান পর্যন্ত জানায়নি।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার জন।
গাজার সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ নারী ও শিশু।
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দী করে নিয়ে গাজা উপত্যকায় ফিরে যায়। সেদিন থেকেই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজায় ভয়াবহ রক্তাক্ত অভিযান শুরু করে যা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে।
ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের বিষয়ে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের মুখপাত্র খালেদ কাদোমি বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নৃশংসতার জবাবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এবং আমাদের পবিত্র স্থাপনা আল-আকসায় ইসরায়েলি নৃশংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেবে। এগুলোই হামাসের এই অভিযানের কারণ।’
সূত্র : আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি






