রংপুর: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিতে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলায় দুটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিবেন তিনি।
দলীয় প্রধানের আগমন উপলক্ষে সাজ সাজ রব এলাকা জুড়ে, শেষ প্রায় মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ। বিশ পদের রান্নার আয়োজন হচ্ছে শ্বশুর বাড়িতে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন নেতা-কর্মীরা।
সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রংপুরের তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, পীরগঞ্জের শ্বশুর বাড়িতে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই উপজেলার ফতেহপুরের নিজ বাড়িটি সেজেছে নতুন সাজে। মঞ্চও প্রস্তুত হয়েছে পীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও তারাগঞ্জ উপজেলা কলেজ মাঠ সমাবেশস্থলে। চারদিকে চলছে মাইকিং, সভা ও মিছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসুচির বিষয়ে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আবু তালহা বিপ্লব জানান, “বঙ্গবন্ধু তনয়া রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বিমানযোগে সৈয়দপুর আসবেন। পরে সড়ক পথে তিনি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিবেন।
পরে সড়ক পথে পীরগঞ্জের ফতেহপুর জয় সদনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন। শ্বশুরবাড়ি ফতেহপুর জয় সদনে পৌঁছে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা পরমাণু ও পদার্থ বিজ্ঞানী স্বামী প্রয়াত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত করবেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় শেষে জয় সদনে দুপুরের খাবার খাবেন।
শ্বশুর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে দুপুরের খাবারে ২০ পদের রান্না হওয়ার কথা জানিয়ে তার নাতনী সাবাবা হোসেন ওহী বলেন, “রুটির সাথে ছোট মুরগীর মাংস, বিভিন্ন ভর্তা, ছোট মাছ, বিভিন্ন্ন শাক, ভাজি এগুলো তিনি বেশি পছন্দ করেন। তো আমরা ট্রাই করি সবসময় উনি যেগুলো পছন্দ করেন সেগুলোই এ্যারেঞ্জ করার।”
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা, পীরগঞ্জের পৌর মেয়র ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজিমুল ইসলাম শামিম জানান, “আমরা পীরগঞ্জবাসী অধীর আগ্রহে বসে আছি। উনাকে বরণ করতে আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। সমাবেশে আসা মানুষের সুবিধায় আমরা ৫টি স্পট করেছি যাতে সুশৃঙ্খলার সাথে মানুষ সমাবেশস্থলে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে পারেন।”
দুটি সভাতেই দশ লাখের বেশি লোকের সমাগমের কথা জানিয়ে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছায়াদাত হোসেন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আসার খবরে যেন ঈদের আমেজ লেগেছে। নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। সবার মধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ দেখছি। তিনি এরআগেও এসেছিলেন তখনও জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিলো রংপুর। এবারও তারাগঞ্জের সভা ও পীরগঞ্জের জনসভায় মানুষের ঢল নামবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উজ্জ্বীবিত ভোটার ও প্রার্থীরা। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে আছে ভোটারসহ সাধারণ মানুষেরা। রংপুর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পীরগঞ্জে আসবেন, এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করে পীরগঞ্জবাসী খুবই উল্লোসিত এবং ব্যাপক আগ্রহ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে তারা অপেক্ষা করছেন।
এরআগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী এই দুটি আসনের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি সবশেষ এ বছরের ২ আগস্ট রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে রংপুর-২ আসনে আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, রংপুর-৪ আসনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, রংপুর-৫ আসনে রাশেক রহমান ও রংপুর-৬ আসনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।







