লক্ষ্মীপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘরে ঢুকে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নেওয়ার ৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হলেও প্রধান অভিযুক্তসহ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ৮ আসামি। মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশসহ নানা হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের ধরতে ও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারের অভিযান চলছে।
দেড়মাস আগে স্কুলের অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পাচঁপাড়া এলাকায় নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে ওই স্কুলছাত্রীটি। গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নৌকা মার্কার নির্বাচনী স্লোগান দিয়ে ২০–২৫ জন যুবক মুখোশ পরে বাড়িতে ঢুকে। একপর্যায়ে রাসেল হোসেন অপুর নেতৃত্বে ৮–১০ জন ঘরে ডুকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর ছাত্রীর মা ও ভাইসহ অন্যদের অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তাদের বাধা দিলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এ ঘটনায় পরের দিন ছাত্রীর মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রাসেল হোসেন অপুকে। পরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামি আনোয়ার হোসেন ও রুবেল পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে। এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামিসহ অন্যরা। ঘটনার পর থেকে মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অপহৃত স্কুলছাত্রীর পরিবার।
অপহৃত ছাত্রীর মা বলেন, ‘নৌকা মার্কার স্লোগান দিয়ে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে করে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার ৫ দিন পার হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামিসহ অন্যরা। মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মেয়েকে উদ্ধারের দাবি জানাই।’
এইভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফিল্ম স্টাইলে শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে গেলেও আসামাদের এখনো ধরতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘অপহরণের ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত রাসেল হোসেন অপুসহ অন্য আসামিদের ধরতে ও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারের অভিযান চলছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। শিগগির আসামিরা ধরা পড়বে। পাশাপাশি অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’








