
রাজধানী ঢাকা শহরে রাত নামলেই নানা রকম ঘটনা ঘটে চলে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়ে পার্টির নামে খারাপ নেশায় যুক্ত হচ্ছেন। তাদের কারণে দিন দিন সমাজ অধপতনের দিকে যাচ্ছে। মূলত বিভিন্ন পার্টিতে অংশ গ্রহণ করে অসংখ্য ছেলে-মেয়ে খারাপ হচ্ছে। একটা সময় এই সকল ছেলে মেয়েরা একটি চক্র গড়ে নানা রকম নিষিদ্ধ জিনিস পান করে। এছাড়া এই সকল পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়ে গিয়ে রাত ভর নেচে গেয়ে সময় পাড় করেন। আর একটা সময় কিছু মেয়ে অর্থের জন্য অন্য লোকের বিছানায় যায়। তবে তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ ওঠার পর প্রায় সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই স্থানে অভিযান চালায়। এবার পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের আবদার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে।
’নো পিল, নিউ ফিল চাই। বরফ আছে? হ্যাভ স্টাফ?’—কথিত হাউস পার্টির নামে ভাড়া ফ্ল্যাটে নেশার জগতে মিলিত হওয়ার আগে একজন আরেকজনকে মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে এমন মেসেজ দেন। অপর প্রান্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের বিপথগামী এক যুবক জবাব দেন—’ইয়েস, হ্যাভ’।
ইন্টারনেটে এভাবেই চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে স্টাফ ও বরফ বলে ডাকা হচ্ছে নতুন নিষিদ্ধ জিনিস ক্রিস্টাল মেথ বা আইসকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ই’’য়া’’বা’’কে বলছেন পিল। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা ও উত্তরায় হাউস পার্টির আড়ালে উচ্চবিত্ত পরিবারের বিপথগামী শতাধিক তরুণ-তরুণীকে ঘিরে চলছে এই কারবার। ’স্টাফ’ কারবারে এই গ্যাং গ্রুপে অন্তত ২০ জন আছেন, যাঁরা আইস সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন।
সম্প্রতি কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, ব্যবসায়ী মিশু হাসান, তাঁর সহযোগী জিসান গ্রেপ্তারের পর মা’’দ’’ক’’দ্র’’ব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ২১ আগস্ট নজরদারির মাধ্যমে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিএনসি ও র্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টেকনাফ থেকে আইস এনে তা গো’প’ন চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে উচ্চবিত্তদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। একই চক্র ই’’য়া’’বা, আ’ইসসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জিনিস বিক্রির পাশাপাশি এস্কট বা অন্যান্য অ’নৈতিক কারবারও চালাচ্ছে। তারা নতুন মা’’দ’’কে’’র ফাঁ’’দে ফেলে তরুণীদের সঙ্গে অ’’নৈতিক সম্পর্ক তৈরি করছে।
মা’’দ’’ক আইস কারবারচক্রের অন্যতম তিন কুশীলব হলেন থাইল্যান্ড থেকে আসা জবির খান, হোটেলকেন্দ্রিক শাকিল ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইডেন। কিছু ফ্ল্যাটে কথিত পার্টির নামে তাঁরা অ’নৈতিক কার্যকলাপের পাশাপাশি প্রতারণাও করছেন। তাঁদের চক্রের বেশ কয়েকজন তরুণীর নামও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি অভিযান জোরদার হওয়ায় তাঁরা গাঢাকা দিয়ে চলছেন। তবে আইসের কারবারিদের ধরতে নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন গোয়েন্দারা।
ডিএনসির অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া রোহিত হোসেন নামে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান একটি বড় সিন্ডিকেটের হোতা। মোহাইমিনুল ইসলাম ইভান নামে গ্রেপ্তারকৃত আরেকজন বনানীর নিয়মিত আইস বিক্রেতা। বনশ্রী থেকে ডিএনসির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হাসিবুল ইসলাম এসব গ্যাং গ্রুপে আইস সরবরাহ করতেন। তিনি একজন ডিলারের কাছ থেকে এই আইস সংগ্রহ করতেন।
এদিকে, দিন দিন রাজধানী ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকা থেকে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদর সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে। আর তারা পার্টির নামে খারাপ কাজে যুক্ত হচ্ছে। তারা নতুন নতুন নেশার জিনিস খেয়ে নানা রকম খারাপ কাজ করছেন। বিশেষ করে মেয়েদের নেশ জাতীয় জিনিস খায়িয়ে তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করছে ছেলেরা। এই সকল অভিযোগ উঠে আসার পর গত কয়েক মাসে কয়েকজন কথিত মডেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এরপরও প্রায় সময় এমন অভিযোগ উঠে আসছে।








