কেউ কারো হওয়ার আগে বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হয়-সম্পূর্ণটাতেই সে
আছে কিনা! সম্পদের ক্ষেত্রে অংশ লওয়া যায় কিন্তু মানুষের মন পাওয়ার প্রশ্নে
সম্পূর্ণতা লাগে! সম্পর্কে ভাগাভাগি চলে না! পূর্ণতম পূর্ণতা নিয়েই মনের লেনদেন
করতে হয়। কোথায় এবং কতটুকু জুড়ে অবস্থান সেটা সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত না হয়ে
সম্পর্কে জড়ায় না! সেদিকে পা বাড়ানোয় বেকুব আর আবেগে পরিচালিতদের গল্প ভিন্ন
রকমের হলেও হতে পারে!
কেউ কারো খোঁজ লয়, অনুপস্থিতিতে বুক ধুকপুকানি করে, একাকীত্বে অনুভব করা
এসব সম্পর্কের শুদ্ধতম রূপ। সম্পর্কে থেকেও যদি মানুষ উদাসীন থাকে, খোঁজ না
লয়, মাঝেমাঝে বকাবকির পরিস্থিতির উদ্রেক না হয় তবে সে সম্পর্কে জং ধরেছে।
প্রেম হোক কিংবা ঘোর, বন্ধুত্ব কিংবা দাম্পত্য-কোন সম্পর্কেই যত্ন না থাকলে,
নাসিং না করলে স্বাভাবিক গতি থাকে না। ধীরে ধীরে মনের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে!
একসময় দু'জন পাশাপাশি চলে অথচ কারো সাথে কারো দেখা নাহি হয়!
ভেতরের সব কথা বাহিরের দ্বিধায় প্রকাশ পায় না। মনের স্বাধীনতা বাস্তবতার গতি-
প্রকৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে। তবুও কিছু কিছু ইচ্ছার মূল্য থাকতে হয়। সব ইচ্ছা যদি
অপূর্ণই থেকে যায় তবে এই জীবন বয়ে বেড়ানোর অর্থ কী? দু'পক্ষ-দু'জনের মধ্যে যদি
বোঝাপড়া ভালো না হয় তবে বিপুল অর্থ-বৈভবের কোন মূল্য নাই। ক্ষমতা-
জমিদারিত্বের কোন সুফল নাই। মনের মধ্যে যদি অসুখ বাঁধে তবে বাইরের চাকচিক্য
অপরের মনে ঈর্ষা জাগাতে পারে কিন্তু ঘরের একফোঁটা শান্তিও নিশ্চিত করতে পারে
না। ঘরে শান্তি না থাকলে মন শান্তির দেখা পায় না।
একজন সুখী মানুষ সুখের মূল্য জানে না। তবে একজন অসুখী মানুষ জানে সুখের
অবর্তমানে কত গভীর ও নিষ্ঠুর হাহাকার তৈরি হতে পারে! যেখানে মনে ঠাঁই নাই
সেখানে দেহ-বাহিরের অনেকখানি নিয়ে প্রভূত্ব ফলানোর মধ্যে কোন ক্যারিশমা নাই।
সম্পর্ক অংশগ্রহণমূলক হওয়া, সমানভাবে ত্যাগের মানসিকতা থাকা উচিত।-এসব না
থাকলে সম্পর্ক মধুরতম ও শুদ্ধতম হয় না। পাওয়ার হলে সম্পূর্ণভাবেই পাওয়ার
চেষ্টা করতে হয়। দখল করার চেয়ে জয় করা সহজ। সেজন্য সচেষ্ট ও সচেতন থাকা
জরুরি। যত্ন করে ভালোবাসতে হয়। বিনিয়োগ করতে হয় সময়। সম্পর্কের মধুরতা
বাড়াতে আন্তরিকতার চেয়ে বড় কোন ওষুধ নাই!
রাজু আহমেদ। কলাম লেখক। raju69alive@gmail.com








