দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষ বা মার্চ মাসের প্রথম দিকে তপসিল ঘোষনার আভাসে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী আলোচনায় সরব হয়ে ওঠেছে সাধারণ মানুষ। দলীয় প্রতীক না থাকার কেন্দ্রীয় ঘোষনায় তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও প্রত্যন্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রার্থী মনোনয়নের দ্বিধা-দ্বন্দ এড়াতে দলীয় মার্কা বিহীন নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থণের সুযোগ পেয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও বেজায় খুশি। আ’লীগের প্রতীক না থাকলেও ক্ষমতাসীন আ’লীগের অন্তত: হাফ ডজন প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে।
এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ থেকে অন্তত: হাফ ডজন প্রার্থী গণসংযোগে নেমেছেন। দিনে রাতে এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট ও সমর্থণ আদায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এড. হারুন অর রশিদ হাওলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান সিকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মর্তুজা, জেলা কৃষকলীগ নেতা ও সাবেক ভাইসচেয়ারম্যান এড. হুমায়ুন কবির বাদশা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এড. মেহেদী হাসান মিজান, মাল্টা প্রবাসি আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: কাওসার আমীন হাওলাদার গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ নেতা মো: আবুল বাশার, রেজাউল হক রাজন, তিতাস গ্যাসের সাবেক ডিজিএম সরদার আ: রশিদ, ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মৃধা, মহিলা আ’লীগের সভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমিন, মহিলা আ’লীগ নেত্রী নাজমুন নাহার শিরিণ, সুরভি আক্তার নিপা, রেজওয়ানা হিমেল, প্রার্থী হতে পারেন। বিএনপি’র প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে জানান সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বেশীর ভাগই আওয়ামীলীগের সমর্থণকে পূঁজি করে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে ঘনিষ্ঠতা আরও গভীর করতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রকাশ্য ও গোপনে তাদের সাথে যোগাযোগ, দেশে-বিদেশে ফ্রি ট্যুর দিয়ে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টাও করেছেন। আবার কেউ কেউ স্থানীয় নেতাদের সমর্থন পেতে ফ্রি গাড়ী সেবার অবাধ সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি নানা উপঢৌকন, দান-অনুদান দিয়ে সমর্থণ অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকার হাট, বাজার, বাসস্ট্যান্ডে এসব প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি ও আগাম প্রচারণায় সাধারন ভোটারদের উজ্জিবিত করেছে। কেউ কেউ উপজেলা শহর ও আশ-পাশের জনবহুল এলাকায় সড়কের দু’পাশে নিজের ছবিসম্বলিত রং বে-রংয়ের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে পরিচিতি ও সমর্থন আদায়ে তৎপড় রয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপজেলার সর্বত্র দলীয় নেতা-কর্মীদের খোঁজ-খবর নেয়া, সুবিধা অসুবিধায় আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা দেয়াসহ নানা ভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীদের শহর, বন্দর, গ্রাম্য হাটবাজার ও বাসস্ট্যান্ডসহ জনসমাগম স্থলে সরব উপস্থিতিতে সাধারন ভোটারদের মাঝেও নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এড. হারুন অর রশিদ হাওলাদার সম্প্রতি উপজেলার সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে সভা ডেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আকুন্ঠ সমর্থণ দাবি করেছেন। তিনি ও সভায় বলেন, দলীয় মনোয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিগত ৫টি বছর উপজেলার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করার নিরলস চেষ্টা করে আসছেন। দলীয় প্রতীক না থাকলেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সমর্থণে জয়ী হবেন বলে তিনি আশাবাদী।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান সিকদার বলেন, জনগনের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, জনগনের প্রত্যাশা পূরণে ফের নির্বাচনে নামার ইচ্ছা ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তিনি। মাল্টা প্রবাসী কাওসার আমিন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘ ২০বছর প্রবাসে কাটিয়েছি। এখন এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। এবার নির্বাচনের ঘোষনা দেয়ায় জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে অবহেলিত দুমকি উপজেলাকে ডিজিটাল ও স্মার্ট উপজেলায় রূপান্তর করার প্রত্যশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে দুমকি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। দলীয় কোন মনোনয়ন না থাকলেও দলগত একটা সমর্থণ অবশ্যই থাকবে। জনসমর্থণে এগিয়ে থাকা যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকেই দলীয় সমর্থণ দেয়া হবে।
#
Post Views: 345
Related