আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীতে শুরু হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জেলার ৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রায় শতাধিক প্রার্থী তৎপরতা শুরু করেছেন। অধিকাংশ প্রার্থীই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থন পেতে দলের নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে দেনদরবার করছে। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে মাঠে তৎপর প্রায় অর্ধশত নেতা। দলীয় প্রতীক না থাকায় এবার অনেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জেলার ৯টি উপজেলায় শতাধিক নেতা শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। ফলে নির্বাচনের মাঠে আলোচনায় নেই স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ কারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গোদাগাড়ীতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবারও প্রার্থী হতে চান। এছাড়াও
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ, কাঁকনহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল মজিদ দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল ও সুনন্দন দাস রতন আলোচনায় আছেন। তবে গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগের তৃণমুলে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও তরুণ শিল্পপতি বেলাল উদ্দীন সোহেল। তানোরে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না এবারও প্রার্থী হতে চান। এ ছাড়া প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। তবে তানোর আওয়ামী লীগের তৃণমূলে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। পবায় বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী ছাড়াও আলোচনায় আছেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী খান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক হোসেন ডাবলু, পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলু, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা। মোহনপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম ছাড়াও আলোচনায় আছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মেহেবুব হাসান রাসেল, জেলা যুবলীগ নেতা মোর্শেদ হাসান রঞ্জু, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সোহরাব আলী খান। বাগমারায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল সরকার এবারও প্রার্থী হতে চান। তিনি ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় আছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু, রাজশাহী বারের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন, শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধা। দুর্গাপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ছাড়াও এবার প্রার্থী হতে আলোচনায় আছেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সরদার, দুর্গাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ। পুঠিয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জি এম হীরা বাচ্চু এবারও নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি ছাড়া প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মুকুল, জেলা পরিষদের বর্তমান সদস্য আসাদুজ্জামান মাসুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক। চারঘাটে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম ছাড়াও এবার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসান মামুন প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। বাঘায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু এবারও প্রার্থী হবেন। তিনি ছাড়াও এ উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীর আলোচনায় আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রোকনুজ্জামান রিন্টু। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, যেহেতু দলীয় প্রতীক নেই, ফলে অনেকে এবার প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বোঝা যাবে, কারা মাঠে থাকছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কীভাবে কাজ করবে, সে ব্যাপারে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিলে তখন দেখা যাবে।#
Post Views: 226
Related