রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: ক্ষেত থেকে আলু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছে রংপুর অঞ্চলের কৃষক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে জমি থেকে আলু উত্তোলনের কাজ। কৃষি শ্রমিকের সংকটে অনেক কৃষক জমি থেকে আলু তুলতে পারছেন না। অনেকেই তাদের পরিবারের সদস্যদের কাজে লাগিয়ে আলু সংগ্রহ করছে। একজন নারী শ্রমিক আলু তোলার জন্য পারিশ্রমিক পাচ্ছেন তিন থেকে চারশত টাকা। এ কাজে শিশুরাও পিছিয়ে নেই। চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় ৪৮ হাজার ৮৪৬ মেট্রিক টন আলু জমি থেকে তোলা হয়েছে। এসব আলুর মধ্যে রয়েছে উফশী ও স্থানীয় জাত। মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে জমি থেকে আলু ঘরে তোলার কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন রংপুর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় চলতি মৌসুমে ১লক্ষ ৬০২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার ৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। রংপুরে ৫৩ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমির ইতিমধ্যে ১৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি থেকে আলু তোলা হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলনের হার উফশী জাত ২৯ দশমিক ৪৫ ও স্থানীয় জাত ১১ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন। গাইবান্ধায় ১১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমির মধ্যে আলু তোলা হয়েছে ৫ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির। হেক্টর প্রতি গড় ফলনের হার উফশী ২৫ দশমিক শূন্য ও স্থানীয় ১২ দশমিক শূন্য মেট্রিক টন। কুড়িগ্রামের ৭ হাজার ৭৫ হেক্টর জমির মধ্যে আলু তোলা হয়েছে ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমির। হেক্টর প্রতি গড় ফলনের হার উফশী ২৩ দশমিক ৭০ ও স্থানীয় ১৩ দশমিক শূন্য মেট্রিক টন। লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমির মধ্যে আলু তোলা হয়েছে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমির। হেক্টর প্রতি গড় ফলনের হার উফশী ২৩ দশমিক ৬৭ ও স্থানীয় ১৩ দশমিক ৭১ মেট্রিক টন। নীলফামারী জেলার ২১ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমির মধ্যে আলু তোলা হয়েছে ১৮হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমির। হেক্টর প্রতি গড় ফলনের হার উফশী ২৩ দশমিক ৫০ ও স্থানীয় ১২ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন। রংপুর সদর উপজেলার কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে ৮একর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছেন। এবার তার নিজস্ব বীজ দিয়ে আলু চাষ করায় উৎপাদন কম হয়েছে। সব মিলে একর প্রতি তার খরচ হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। প্রতি একরে তিনি গড় আলু পেয়েছেন ১০০ বস্তা। তবে উন্নত বীজ হলে উৎপাদন বেশি হতো বলে জানান তিনি। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, আলুর ফলন ভাল হয়েছে। পরিবারের সদস্য নিয়ে জমি থেকে আলু তোলার কাজ করছি। নিজের কাজ নিজে করতে পারলে বেশি লাভবান হওয়া যায়। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের ঝরনা রনী বলেন, আগাম জাতের আলু চাষে বেশি লাভবান হয়েছি। প্রতি কেজি আলু জমিতে পাইকারি বিক্রয় করেছি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা করে। আলু তোলার মৌসুম হওয়ার কারণে আলু দাম কিছুটা কমেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে। রংপুর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো.আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় আলু উৎপাদন হয়েছিলো ২৭ লক্ষ ৩২ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন। এবার তার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








