রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: মেয়েকে ফিরেয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাকে ডেকে এনে মাদক ও
জাল টাকা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের শিকার মেয়েকে উদ্ধারের দাবিসহ মিথ্যা
মামলায় জড়িয়ে আটক স্ত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছে স্বামী তুহিন ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে
রিপোর্টার্স ক্লাব, রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করে অপহৃত মেয়ের বাবা তুহিন
ইসলাম বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা এলাকার আরিফুল নামে এক
যুবক বড়ভিটা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের নবম ছাত্রী খাতুনে জান্নাত ফাতেমাকে (১৪) অপহরণ
করে। এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা না নিলে বাধ্য হয়ে অপহৃত মেয়ের মা সেলিনা বেগম বাদি হয়ে
কোর্টে মামলা দায়ের করে। অপহরণের ৫২ দিন অতিবাহিত হলেও মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
উল্টো অপহরণকারীরা মেয়ের মাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ
করেন সংবাদ সম্মেলনে। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন- মেয়ের
সন্ধান চেয়ে প্রশাসনের প্রতি আকুতি জানিয়ে কোন লাভ হয়নি। মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার
প্রলোভন দেখিয়ে লাভলু মিয়া মটর সাইকেলযোগে মেয়ের মা সেলিনা বেগমকে রংপুর শহরের ইন্দ্রিরা
মোড় সংলগ্ন সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যাগ হাতে ধুরিয়ে দিয়ে বলে এখানে
দাঁড়ান আমি আপনার মেয়েকে নিয়ে আসছি। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অপহরণকারী
চক্রের পরিকল্পিত ফাঁদে প্রতারিত হয়ে মাদক মামলায় কারাগারে থাকা স্ত্রীর সেলিনা খাতুনের
মুক্তিসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ
করেন তিনি। একই সাথে প্রশাসনের কাছে সহযোগিত কামনা করেন। তুহিন ইসলাম নীলফামারীর
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া উত্তর বড়ভিটা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায়
তিনি নৈশ্যপ্রহরী, তার স্ত্রী বাড়িতে দর্জির কাজ করেন। পাঁচ সদস্যদের অভাবের সংসারে মেয়েকে
পড়াশোনা করাতে বড়ভিটা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে ভর্তি করেন তিনি। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া
নাবালিকা ওই মেয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে অপহরণের শিকার হন।
তুহিন ইসলামের দাবি, একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আরিফুল ইসলাম এ ঘটনার সঙ্গে
জড়িত। ঘটনার ৬দিন পর ২ মার্চ কিশোরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ
করেনি। পরে ৪ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নীলফামারীতে মামলা দায়ের করেন। যা
বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এদিকে ঘটনার ৫২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অপহৃতা মেয়ের
কোনো সন্ধান না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত
বক্তব্যে তুহিন ইসলাম বলেন, একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২২) দীর্ঘদিন ধরে তার স্কুলপড়ুয়া
মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি তার বাবা জয়নাল আবেদীনকে জানালে
কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি-ধামকি
দেখানোসহ বাড়িঘরে আগুন দিয়ে উচ্ছেদ করার ভয়ভীতি দেখায় আরিফুলের পরিবার। গত ২৫
ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির বাহির বের হলে পূর্বপরিকল্পনা
অনুযায়ী আমার মেয়েকে জোরপূর্বক আরিফুল অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর
থেকে অনেক জায়গায় খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মারফতে সন্ধানের চেষ্টা করে এখন
পর্যন্ত অপহৃতা মেয়েকে পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে জয়নাল ও আরিফুল চক্রের লোক লাভলু মিয়ার ষড়যন্ত্রের
ফাঁদে পড়ে তার স্ত্রী সেলিনা বেগম। তুহিন ইসলাম বলেন, অপহৃতা মেয়েকে রংপুরে পাওয়া গেছে
এমন সংবাদ দিয়ে আমার সহজ সরল স্ত্রীকে গ্রাম থেকে নিয়ে শহরে আসেন লাভলু মিয়া। পরে
কৌশলে একটি শপিং ব্যাগ সেলিনার হাতে ধরিয়ে দিয়ে সটকে পড়নে ওই ব্যক্তি। এর কিছুক্ষণ পর
কোতয়ালী থানা পুলিশ আমার স্ত্রীকে আটক করে ওই শপিং ব্যাগ থেকে ২৫ গ্রাম গাঁজা ও ১০
হাজার জাল টাকার নোট উদ্ধার করেন। ওই ঘটনায় বর্তমানে আমার স্ত্রী কারাগারে রয়েছে। তিনি
আরও বলেন, আমি এবং আমার স্ত্রীসহ পরিবারের আমরা কেউই মাদক কারাবারির সাথে জড়িত না।
অপহৃতা মেয়েকে খুঁজতে এসে আমার এখন স্ত্রী কারাগারে। আর আমি ন্যায় বিচার চেয়ে এখন
প্রশাসনের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছি। আমি প্রশাসনের কাছে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। একই
সঙ্গে আমার অপহৃতা মেয়েকে উদ্ধারসহ জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে তুহিন
ইসলামের পরিবারের সদস্য, আত্নীয় ও প্রতিবেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা, প্রজ্ঞাপন জারি
দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর)...







