একটা সময় ছিল যখন ভোটকে উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। নির্বাচন
আসলে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দল বেধে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে
ভোটাধিকার প্রয়োগ করতো। কিন্তু কালের বিবর্তণে নির্বাচনে এখন তেমন
জনসম্পৃক্ততা দেখা যায় না। ভোটাদের উপস্থিতি থাকে অনেক কম। আর এই অবস্থাতে
নির্বাচনকে আবারও উৎসবমুখর করতে ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে দিনাজপুরের
একটি কেন্দ্রে। সেখানে পার্শ্ববর্তী একটি মহল্লার সাড়ে ৩শ’ ভোটার একসাথে
ভোট দিতে এসেছেন। মহল্লার সবাই মিলে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে তারা আনন্দ
উপভোগ করেছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় দিনাজপুরের জুবিলি স্কুল কেন্দ্রে দেখা যায় সেখানে
দলবেধে পায়ে হেটে আসছেন একদল ভোটার। তারা সকলেই দিনাজপুর সদর উপজেলার
রাজবাটী উড়াওপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। সকলে মিলে ভোট দিতে এসেছেন,
নাগরিক অধিকার থেকে। ভোট দিয়ে তারা সকলেই বেশ ভালো অনুভুতি প্রকাশ
করেছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, ভোট দিয়ে তারা ঈদের মতই আনন্দ উপভোগ
করেছেন। বিকেলেও গিয়ে দেখা যায়, তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন কেন্দ্রের
পার্শ্বে। জানিয়েছেন, সারাদিনই কেন্দ্রের পার্শ্বে থেকে তারা আনন্দ উপভোগ
করেছেন।
এসব ভোটারদের মতে, ভোট তাদের নাগরিক অধিকার। যার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী
নির্বাচিত হবেন, আর তারা জনগনের জন্য কাজ করবেন। তাই এমন উদ্যোগে
সাড়া দিয়ে সবাই মিলে দিয়েছেন ভোট।
রাজবাটী এলাকার আলো রানী ঘোষ বলেন, সকলে মিলে ভোট দিতে এসে খুব ভালো
লেগেছে, ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে। শান্তি-শৃঙ্খলাভাবে ভোট দিতে পেরেছি।
একই এলাকার আয়েশা বেগম বলেন, সকাল সাড়ে ৯ টায় আমরা প্রায় সাড়ে ৩শ’
মিলে এখানে এসেছি। মনের আনন্দে এসেছি। আমরা সবাই ঈদের মত আনন্দ
করছি। ভোট দিয়ে সবাই আনন্দিত।
প্রায় ৭০ বছর বয়সী শমশা খাতুন বলেন, আগে ভোট দিতে আসতাম। আজ ভোট
দিতে এসেছি। ভোট দিয়েছি, অনেক মানুষ নিয়ে এখানে এসেছি।
সুমী বেগম বলেন, আমার পাশের একজন ভাবী বললো যে ভোটটি নষ্ট করিও না।
সবাই মিলে ভোট দিতে যাবেন জেনে আমিও সবার সাথে এসেছি। সুষ্ঠুভাবে
ভোট দিয়েছি, বয়স্ক মানুষদেরকে নিয়ে এসেছি।
এলাকার ফিরোজুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার রাস্তাঘাট খুব খারাপ। তাই তাদের
চাওয়া যেন যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হন। সেই ব্যক্তি যাতে করে তাদের রাস্তাঘাট
ঠিক করে দেন। এজন্য সকলে মিলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এসেছেন।
শাপলা বেগম বলেন, যে প্রতিনিধি হবেন, আমাদের ভোটেই যাতে করে তিনি
নির্বাচিত হন। আমরা চাই এমন মানুষ নির্বাচিত হোক যাতে করে আমাদের
গরীব-দু:খীর ভালো করেন, পাশে থাকেন। আমাদের রাস্তাঘাটগুলোর উন্নয়ন করেন,
এলাকার উন্নয়ন করেন। এজন্য নিয়ে ভোট দিয়েছি, অপরকেও সাথে করে নিয়ে
এসেছি।
এলাকার মানিক মহন্ত বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সেজন্য আমাদের
দায়িত্ব আছে। আমাদের একজন যোগ্য প্রতিনিধি দরকার। ভোট আমার ব্যক্তিগত
অধিকার, সেটা আমাকে দিতে হবে।
সাধারন ভোটারদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এমন উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান
নেতৃবৃন্দ। যাতে করে তাদেরকে দেখে অন্যান্য এলাকার ভোটাররাও আগ্রহী হবেন।
এলাকার রুস্তম আলী বলেন, ভোট যাতে করে শান্তিপূর্ণভাবে দিতে পারেন এই
আশাবাদ সকলের। আমরা এলাকার ভোটারদেরকে আশ্বস্ত করে এখানে নিয়ে এসেছি।
সোহরাব হোসেন কাজী বলেন, সাধারন ভোটারদেকে উৎসাহিত করার জন্য আমাদের
এই উদ্যোগ। সাড়ে ৩শ’ ভোটারকে দেখে অন্যান্য ভোটাররা উৎসাহিত হবেন।
একটা সময় এভাবেই সকলে মিলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতাম।
আমাদের চাওয়া, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অবশ্যই যাতে করে যোগ্য ব্যক্তিরা
নির্বাচিত হন। এজন্য সকলকে কেন্দ্রে এসে যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে রায় দেয়া
প্রয়োজন।
দিনাজপুর অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সাধারন সম্পাদক আতাউর
রহমান বলেন, আমার বাসা রাজবাটী সবজি বাগানে। আমার এলাকার ভোটারদেরকে
নিয়ে এখানে এসেছি। আমাদেরকে দেখে যাতে করে অন্যান্য এলাকার ভোটাররাও
কেন্দ্রে আসে, উপস্থিত হিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আমাদের উদ্দেশ্য সবাই
যাতে করে কেন্দ্রে এসে ভোট দেন।
২৯ মে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে দিনাজপুর জেলার সদর, চিরিরবন্দর ও খানসামা
উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই মহল্লার ভোটাররা ছিলেন সদর
উপজেলার।







