রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: মহান আল্লাহ তা’য়ালার কি কুদরত মৃত্যুর ১৫ বছর পর কবরে মরদেহ
অক্ষত রেখেছেন। কাফনের কাপড়টুকুতেও লাগেনি সামান্য দাগ। চারপাশে চিকচিক করছিল বালু। এ
ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর মহানগরীর নব্দীগঞ্জ গোদা-শিমলা এলাকায়। এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের
সৃষ্টি করেছে। গত ৩০ মে বৃহ¯পতিবার বিকালে রংপুর-কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রংপুর
মহানগরীর নব্দীগঞ্জ গোদা-শিমলা এলাকায় রাস্তা বর্ধিতকরণ ও গ্যাসের সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ
কাজ চলছিল। এ কারণে সেখান থেকে কয়েকটি কবর স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন স্বজনরা। দুইদিনে
৪টি কবর স্থানান্তরের পর আরেকটি কবর খুড়তেই ঘটে আশ্চর্যজনক ঘটনা। দেখা যায়, অক্ষত অবস্থায়
ধবধবে সাদা কাপড় দিয়ে মোড়ানো রয়েছে লাশ। এলাকাবাসী বলেন, ২০০৯ সালে সেখানে কবরস্থ
করা হয়েছিল মরহুম আব্দুস সামাদকে। পনের বছর আগের সেই পুরোনো কবরটি স্থানান্তর করতে এ
ঘটনায় অবাক তারা। দ্বিতীয়বার স্বচোখে অভিভাবকের অবিকল মরদেহ দেখতে পারায় অবাক মরহুমের
স্বজনসহ পুরো গ্রামবাসী। জানা যায়, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বার্ধক্যজনিত কারণে
১৩২ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে মারা যান আব্দুস সামাদ। তিনি ছিলেন কৃষিকাজের সাথে যুক্ত।
দুই স্ত্রী এবং আট ছেলে ও চার কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন তিনি। এরমধ্যে তার দুই ছেলে ও এক
মেয়ে মারা গেছেন। মরহুম আব্দুস সামাদের ছেলে বলেন, আমার বাবা যেদিন মারা যান, সেদিন
বাড়ির পাশের পুকুরে একাই তিনি গোসল করেন। এরপর তিনি পুকুর থেকে উঠে এসে চেয়ারে
বসলে ওই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি ধার্মিক মানুষ ছিলেন। কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের পর
আবারও তাকে পাশে অন্যদের সাথে দাফন করা হয়। তার শরীরের সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। শুধু
শরীরের চামড়াটা শুকিয়ে গেছে। বাবার শরীরের কোথাও কোনো পচন ধরেনি। এমনকি কাফনের কাপড়ও
নষ্ট হয়নি। তাকে কোনো কিছুই ¯পর্শ করেনি। হজের ইহরামের কাপড় দিয়ে তাকে কবরস্থ করা
হয়েছিল। যেভাবে তাকে কিবলামুখী করে রেখেছিলাম সেভাবেই কবরে ছিল। আলহামদু লিল্লাহ এটা
আল্লাহ রহমত ছাড়া আর কিছুই নয়। স্থানীয়রা বলেন, পনের বছর আগে আমরা তাকে কবরস্থ করার সময়
যেভাবে দাফন করেছিলাম। সেদিন ওই অবস্থায় তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। আশ্চর্যজনক হলেও
সত্য লাশের হাত-পায়ের সামান্যতম পরিবর্তন হয়নি। চাঞ্চল্যকর এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড়
জমানো মানুষ বলেন, পরহেজগার মানুষ ছিলেন মরহুম আব্দুস সামাদ। এলাকার সব থেকে জনহিতকর
মানুষ হিসেবে খ্যাতি ছিল তার। তিনি ছিলেন তাবলীগ জামায়াতের সাথে যুক্ত। দেশের বিভিন্ন
প্রান্তে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। ধাপ সাতগাড়া বায়তুল মোকাররম মডেল কামিল মাদরাসার
অধ্যক্ষ মাওলানা আনম হাদিউজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, যারা দুনিয়াতে
সবকিছু ভুলে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলেন তাদেরকে কবরে সুসংবাদ দেওয়া হয়। কবর পোকা-
মাকড়ের ঘর হলেও তাদের কোনো কিছুই ¯পর্শ করে না। শুধু তাই নয় ইসলামের পথে থাকা ওইসব
ব্যক্তির দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালার নিজের। তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে তার
ভালো কাজের জন্য পুরস্কার হিসেবে এটা দিয়েছেন। কারণ এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ
ঘোষণা দিয়েছেন যারা আল্লাহর হয়ে যান, আল্লাহ তার হয়ে যান। এ ধরণের মানুষকে কবরে কোন
কিছু ¯পর্শ করবে না এবং কবরেও তার রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহই করেন। ইসলামিক চিন্তাবিদগণ
বলেন, এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। দুনিয়ায় যারা আল্লাহর বিধিনিষেধ মেনে চলেন তাদের
হেফাজতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহই নিয়ে থাকেন। তাদেরকে কোনো কিছুই ¯পর্শ করে না। ওই
ব্যক্তির বেলায়ও তাই হয়েছে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







