আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলের চরম ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে, একই সঙ্গে দিন দিন তিনি প্রায় একা হয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে তিনি প্রায় কোনঠাসা হয়ে হাবুডুবু খাচ্ছেন । ইতমধ্যে আওয়ামী লীগের আদর্শিক-পরিক্ষিত সিংহভাগ নেতাকর্মী বেলালকে ত্যাগ করেছে। পাশাপাশি তৃণমুলের নেতাকর্মীরাও তার ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।কিন্ত্ত সেটা না বুঝেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই বেলাল এমপিকে টেক্কা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে। কেউ কেউ বলছে, উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে এমপিকে টেক্কা দেয়া আর কুয়োর ব্যাঙ হয়ে সুমুদ্র জয় করা সমান কথা। যেটা দিবা স্বপ্ন যা কখনই পূরুণ হবার নয়। এমপি ফারুক চৌধুরী চাইলে রাতারাতি দু’দশটা বেলাল সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন।কিন্ত্ত দু’দশটা বেলাল মিলে কি একটা ফারুক চৌধুরী সৃষ্টি করতে পারে ? তাহলে বুঝতে হবে বেলালের লড়াই কার সঙ্গে ? স্থানীয় রাজনীতি,অর্থনীতি ও উন্নয়ন ইত্যাদি এমপিদের নিয়ন্ত্রণে, এখন প্রশ্ন হলো এমপির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে তিনি এলাকার উন্নয়নে কি কোনো ভুমিকা রাখতে পারবেন ? এদিকে বিষয়টি উপলব্ধি করে তাকে উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা আখ্যা দিয়ে নেতা ও কর্মী-সমর্থকেরা তাকে ত্যাগ করতে শুরু করেছে।
তৃণমূলের ভাষ্য, ক^য়োর ব্যাঙ যখন ডোবায় যায় তখন সে মনে করে মুঁই কি হনো-রে আর ডোবা ছেড়ে পুকুরে গেলে নিজেকে মনে করে রাজা, আবার পুকুর থেকে খাল-বিলে গেলে নিজেকে মনে করে সবার সেরা। কিন্ত্ত এর পরেও যে নদী, সাগর বা মহাসাগর রয়েছে সেটা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা থাকে না। আর বিপত্তী সৃষ্টি হয় তখনি যখন কুঁয়োর ব্যাঙ খাল-বিল ছেড়ে নদীতে যায়। কারণ কুঁয়োর ব্যাঙ সর্বোচ্চ খাল-বিলে যেতে পারে নদীতে যাওয়ার মেতো কানো সামর্থ্য তাঁর নাই।
কেনো না নদীতে স্রোত রয়েছে যেকোনো সময় টেনে নিয়ে যেতে পারে, রয়েছে হাঙ্গর-কুমিরসহ নানা প্রজাতির হিংস্র প্রাণী যাদের মোকাবেলা করে টিকে থাকার মতো কোনো সামর্থ্য নাই কুঁয়োর ব্যাঙের। অথচ এর পরেও তো রয়েছে সাগর ও মহাসাগর ইত্যাদি।
স্থানীয়রা জানান,বেলালকে নিয়ে নানা বির্তক ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন। কথিত মানবিক চেয়ারম্যানের পশুখাদ্যর আড়ালে মানব খাদ্য আমদানি করে রাজস্ব ফাঁকি ইতমধ্যে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
তৃণমুলের ভাষ্য, সাধারণ মানুষ যে স্বপ্ন নিয়ে তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিত হবার পর তার নেতিবাচক নানা কর্মকান্ডে তাদের সেই স্বপ্ন উবে গেছে। তার অনুগতদেরও চেহারায় এক ধরনের হাতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মাঝেও ক্ষোভ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে নির্বাচিত হয়েই বেলাল উদ্দিন সোহেল স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে বিরোধ ও নানা বিতর্কে জড়িয়ে গোদাগাড়ীর মানুষকে হতাশায় ডুবিয়েছে বলে অভিমত তৃণমূলের। স্থানীয়রা জানান,বেলাল উদ্দিন সোহেলকে তার অনুসারীরা জনদরদী ও গরিবের বন্ধু ইত্যাদি নামে প্রচার করছে। অথচ তিনি শুল্ক ফাঁকি দিতে গোখাদ্যর আড়ালে মানুষের খাবার গুড় আমদানি করে সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন। এছাড়াও দায়িত্ব গ্রহণের দিন আওয়ামী চেতনাবিরোধী ও নতুনমুখের মানুষদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে অনুমতি ব্যতিত সমাবেশ করে বির্তকের সৃষ্টি করেছেন।
এদিকে অসমর্থিত একাধিক সুত্র জানান, উপজেলার দেওপাড়া ইউপির চৈতনপুর মাঠে অবৈধ পুকুর খনন এবং সরকারি পাকা-কাঁচা রাস্তা নষ্ট করে ইট ভাটায় মাটি বাণিজ্যে, রাজাবাড়ি হাটের টিন বিক্রি ও রাজাবাড়ি সরকারি গরুর খামার কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে বেলালের কানেকশান রযেছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ব্যাপক প্রচার রয়েছে। গোদাগাড়ীর মানুষ এসব নানা কারণে বেলালকে উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে। এছাড়াও মাদক কানেকশান ও রাতারাতি টাকার কুমির হওয়া নিয়েও বেলালকে নিয়ে সাধারণের মাঝে রয়েছে নেতিবাচক নানা গুঞ্জন। এছাড়াও বেলাল উদ্দিন সোহেলের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে বলেও গুঞ্জন বইছে।এবিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে,তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তিনি বলেন, তিনি উপজেলার সকল মানুষের সহযোগীতা নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার উন্নয়নে কাজ করতে চান।#
Post Views: 190
Related