মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে স্বামী, শ্বশুর শ্বাশুড়ীর অবহেলা ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে গৃহবধূ। ওই গৃহবধূর নবজাতকের মৃত্যুর ১৫ দিন পর অবশেষে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে মারা যায় গৃহবধূ রিমা আক্তার (২১)। গৃহবধূ রিমা আক্তার উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের মাদু মিস্ত্রি বাড়ির মাহমুদুল হকের মেয়ে ও একই এলাকার জাফর মিস্ত্রি বাড়ির জাফর আহম্মদের পুত্র ওসমান গণি (২৩)’র স্ত্রী। এই ঘটনায় গৃহবধূ রিমার বড় ভাই আরিফ হোসেন বাদী হয়ে রিমার স্বামী ওসমান গণি, শ্বশুর জাফর আহম্মদ ও শ্বাশুড়ী নাছিমা আক্তারকে আসামী করে জোরারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে গৃহবধূর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানা যায়, ২০২০ সালের ২ মার্চ পারিবারিকভাবে কোর্ট হলফনামা সম্পন্ন করে রিমা আক্তার ও ওসমান গণির বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে গৃহবধূ রিমার উপর বিভিন্নভাবে মানসিক, শারীরিক নির্যাতন ও প্রহার শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত নয়টার দিকে গৃহবধূ রিমা আক্তারের প্রসব বেদনা হলে স্বামী, শ্বশুর শ্বাশুড়ীর অবহেলায় সারারাত প্রসব বেদনা সহ্য করে ২৮ জানুয়ারি সকালে ভূমিষ্ট হয়ে নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং অগোচরে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে অসুস্থ গৃহবধূ রিমা আক্তারকে প্রথমে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেখানে অবস্থার অবণতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তি অবস্থায় প¯্রাব ও কিডনি সমস্যা দেখা দিলে কিডনি রোগ বিভাগের ১৭ নং ওয়ার্ডের ২৬ নং বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) বেলা সোয়া দুইটার দিকে রিমা মারা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাসেম জানান, বিয়ের পর থেকে তার উপর মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। তবে সর্বশেষ রিমার সন্তান প্রসবের সময় তার স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর অযতœ অবহেলা আর মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
স্থানীয় দাত্রী সারজাহান জানান, ২৭ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে রিমার প্রসব বেদনা উঠলে তার শাশুড়ী আর স্বামী মিলে আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এসময় রিমার শারীরিক অবণতি দেখে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিই। তবে তারা হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনাগ্রহ দেখিয়ে আমাকে চেষ্টা করতে বলে। সারারাত কষ্ট করার পর পরেরদিন সকালে পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। তখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে রিমা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়।
নিহত গৃহবধূ রিমার মামি হাসিনা আক্তার জানান, ২৮ তারিখ সকালে খবর পেয়ে তার শ্বশুর বাড়ির গেইটে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর আমাদেরকে ভেতরে ডুকতে দেয়। এসময় রিমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে আমাদের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে তার শাশুড়ী। এর উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত।
নিহত রিমার স্বামী ওসমান গণি তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নূর হোসেন মামুন বলেন, উক্ত ঘটনায় গৃহবধূ রিমার ভাই ৩ জনকে অভিযুক্ত করে এফআইআর (নং-০৯) দায়ের করেছে এবং পোস্টমর্টেম শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







