অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের ভেতরে–বাইরে বিক্ষোভ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা সচিবদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্র-জনতা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় সোমবার। এরপর তিন দিন দেশে সরকার ছিল না। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। শুক্র ও শনিবার ছুটির পর রোববার (১১ আগস্ট) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সবার চোখ ছিল সচিবালয়ের দিকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ’ ছাত্র-জনতা দাবি করেন, যারা এখন কর্মরত তাদের দ্রুত অপসারণ করতে হবে। রোববার বেলা ১১টা থেকে তারা সচিবালয়ের সামনে ছাত্র-জনতা পরিচয়ে অবস্থান নেন কয়েকশজন। এ সময় তারা সচিবদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা চলে যান।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পুলিশ, চিকিৎসা ও প্রশাসনে নানাভাবে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে কেউ আছেন চাকরিচ্যুত, কেউ পদবঞ্চিত, আর একদল পিএসসির সুপারিশ পেয়েও চাকরি না পাওয়া। চিকিৎসকদের একদল দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ছিলেন।
রোবাবর সচিবালয়ের বাইরে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাকরিচ্যুত পুলিশের কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পদের ব্যক্তিরা। অন্যদিকে সরকারি কর্মকমিশন থেকে বিসিএস ২৮তম ব্যাচ থেকে ৪২তম ব্যাচে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগবঞ্চিতরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জড়ো হন।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘পদোন্নতিবঞ্চিত’ কর্মকর্তারা তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসকদের বিক্ষোভের মুখে গতকাল বঞ্চিতদের তালিকা করা হয়েছে।
জানা যায়, এরই মধ্যে পদোন্নতিবঞ্চিতরা একটি তালিকা তৈরি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। যত দ্রুত সম্ভব তাদের পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানান।
সচিবালয় গেটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সেনা সদস্যরা। তবে রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্র জনতা পরিচয় দেওয়া পল্টনের এক বাসিন্দা জানান, শেখ হাসিনার সময়ে যারা সচিব ছিলেন তাদের ইমিডিয়েট অপসারণ চাই। তারা হাসিনা সরকারের দালাল। আমরা চাই আইনের আওতায় এনে তাদের ফাঁসি দেওয়া হোক, সেজন্য আমরা এখানে মিছিল করছি। যারা এখন দায়িত্ব পালন করছেন তাদের ব্যাপারেও আমাদের একই দাবি। জালিম সরকারের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিদের নির্দেশেই তো গুম, খুন ও হত্যা হয়েছে।
গত কয়েক দিন সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যারা ছিলেন, সোমবারের পর থেকে তারা অফিসে আসছেন না। অন্যদিকে যারা ১৫ বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত ছিলেন, তারা মঙ্গলবার থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ জানাচ্ছেন। গতকাল সকাল থেকে তারা তাদের অবস্থান জানান দেন।







