মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসীরা। দিদারুল আলম মিয়াজীর ছোট ভাই ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন মিয়াজী (৩৮) সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হলে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। পরবর্তীতে শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে বুধবার বারইয়ারহাট পৌরসভায় সকালে মিছিল এবং বিকালে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জানাগেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টায় বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীর বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার নুরুল আবছারের ছেলে বাবলু মিয়াজী বিএনপির দোহাই দিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভার ফেনী আয়রন মার্ট থেকে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে জোরপূর্বক নিয়মিত হারে চাঁদা আদায় করেন। দোকানের মালিক চাঁদাবাজীর বিষয়টি বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীকে জানান। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদার জন্য চাপ দিলে দোকানের মালিক আবারও দিদারুল আলম মিয়াজীকে অভিযোগ করেন। দিদার দোকানদারকে বলেন যে কোন লোক চাঁদাবাজী করতে আসলে তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে। না হলে বেঁধে রেখে তাকে খবর দিতে। সাথে সাথে বাবলুকে ডেকে ধমক দিয়ে চলে যান দিদার। পরবর্তীতে বাবলু দিদারকে মারার জন্য শতাধিক সাঙ্গপাঙ্গসহ কিরিচ, চুরি, লাঠিসহ ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দিদারকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে তার ছোট ভাই ইকবাল হোসেন মিয়াজীর (৩৮) উপর হামলা চালায়। ইকবাল (৩৮) কে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। প্রথমে ইকবালকে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তৃব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় সন্ত্রাসীরা রা বাজারে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তান্ডব চালিয়ে আতংক সৃষ্টি করে। তারা দিদার এবং তার অনুসারী, সমর্থকদের নাম ধরে ধরে খুঁজতে থাকে। এসময় তাদের ছোড়া পাথরের আঘাতে মনোয়ারা বেগম (৫৫), দিদারের অনুসারী মিনহাজ উদ্দিন টিটু (৩৩), মিনহাজ উদ্দিন সোহান (৩০), রুবেল (৩০), ঝুমন (৩২), বাদশা (২২), রিয়াজ (২৪), নোমান(২৪) আহত হয়। পরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ী ইকবালের উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ী এবং আশপাশের সাধারণ মানুষ সংঘটিত হয়ে বাজারে এসে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
হামলায় আহত মিনহাজ উদ্দিন টিটু জানান, আমরা বাজারে বন্ধুরা মিলে কথা বলছিলাম। কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাদের উপর উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। মাঈন উদ্দিন লিটন, বাবলু মিয়াজির নেতৃত্বে জসিম উদ্দিন, মামুন, নিজাম উদ্দিনসহ আরো শতাধিক স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেন। তাদের সকলের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।
বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী জানান, আমি আমার ভাইকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছি। তার অবস্থা ভালো নয়। এই ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার সকাল ৯ টায় বারইয়ারহাট পৌরসভায় মিছিল এবং বিকাল ৩ টায় জিরো পয়েন্ট চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছে পৌরসভা বিএনপি।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃব্যরত চিকিৎসক জোবায়ের হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১০ টা ২০ মিনিটের সময় ইকবাল হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাত ছিল। তবে শরীরের কোথাও রক্তক্ষরন নেই। মাথায়, বুকে আঘাতের কারনে প্রচুর বমি হচ্ছে দেখে দ্রুত সিটিস্কেন করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপ পরিদর্শক তারিমুজ্জামান জানান, হামলার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি।







