কুমিল্লা: বন্যায় প্লাবিত হয়েছে কুমিল্লার ১৪ উপজেলা। দীর্ঘ ১৫ দিনেরও বেশি সময় পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে পানি। আর এরই মাঝে ভেসে উঠতে শুরু করেছে বন্যার ক্ষত।
গত কয়েকদিন ধরে বন্যায় পানি কমছে ধীরগতিতে। আর বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট।
চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত জ্বর-সর্দি, কাশি, ডাইরিয়া ও চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগিদৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাট-বাড়িঘর। বানভাসীদের কান্নাও ততোটাই বেড়ে চলেছে।
গোমতীর ভাঙ্গনকবলিত বুড়িচং উপজেলার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন অন্তত ৬টি গ্রামের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বাড়ির ঘর ভেঙ্গে পড়ে আছে। বাড়ির আঙ্গিনা থেকে পানি সরে যাওয়ার পর অনেকেই ফিরতে শুরু করেছেন বাড়ি-ঘরে।
এদিকে কুমিল্লায় বন্যায় বানভাসী মানুষদের সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে ১০ লাখ বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও ইউনিসেফের সহায়তায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া হাইজিং কিডবক্স, জেরিকেন, সাবান বিতরণ ও মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কুমিল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বলেন, ‘বন্যায় মানুষ পানিবন্দি এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে, তবুও বিশুদ্ধ পানি সংকট রয়েছে। তড়িৎ ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত পানি বিশুদ্ধকরণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১০ লাখ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।’
এছাড়া পানিবন্দি এলাকায় হাইজিং কিডবক্স, জেরিকেন, সাবান বিতরণ ও মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কার্যক্রম, সেনিটেশন ব্যবস্থা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
এবারের বন্যায় কুমিল্লায় ১৪ উপজেলায় প্লাবিত কৃষিখাত, মাছের ঘের, প্রাণী সম্পদ, রাস্তাঘাট ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মিলিয়ে কুমিল্লাজুড়ে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।







