মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন চৌধুরী ও অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম সাদ্দামের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়ের বর্তমান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর এলাকায় স্কুল ক্যাম্পাস ও পৌরবাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভকারীরা চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন চৌধুরী ও অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম সাদ্দামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী সজিব চৌধুরী বলেন, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফির বাইওে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। ইতিপূর্বে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেও ফেরত না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে প্রধান শিক্ষক। অনতিবিলম্বে এইসব অনৈতিক অর্থ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। স্কুল ক্যাম্পাসে সকল ধরণের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি পরিহার করতে হবে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষের শোভনীয় আচরণ করতে হবে ও স্কুলের উন্নয়রে স্বার্থে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্কুলের নানাবিধ কাজে যুক্ত করতে হবে।
২০২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভ বলেন, স্কুলের মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রশংসাপত্র, প্রত্যায়ন পত্র ফি শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে এবং রশিদ ব্যতীত কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোনপ্রকার টাকা নেওয়া যাবে না। প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার আগে মূল্যায়ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সবধরণের অর্থ সংক্রান্ত বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী নুর আলম বলেন, প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন চৌধুরী চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বের কর্মস্থল মাদবারহাট মাদ্রাসায় থাকাকালীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত হন। ওই তদন্ত রিপোর্টটাও আমাদের কাছে আছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত এই প্রধান শিক্ষক। এছাড়া শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নিয়ে অনেকসময় কোন প্রকার রশিদ দেন না। আমরা প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম সাদ্দামের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি বর্তমানে চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে আছি, চেকআপ করার জন্য। এখন ব্যস্ত আছি, আপনাকে পরে ফোন দিবো বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’
মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান বলেন, চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ ইউএনও বরাবর দিয়েছিলেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী এবং আমাকেসহ দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছি। যেহেতু এটা অর্থ সংক্রান্ত বিষয় তাই আমরা ইউএনও স্যারকে বলেছি ভালো দক্ষ থেকে একজনকে দিয়ে বিষয়টি আরো তদন্ত করার জন্য। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, আমরা ৪ দিন আগে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এই বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আইনানুুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







