আরপিও-এর ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়সূচি জারি হওয়ার পর থেকে ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত ইসির অনুমতি ছাড়া সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি না করার বিধান রয়েছে। অথচ ইসির আদেশ অমান্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৩ চলাকালীন সময়ে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রয়াত্ব মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করেছেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান। উল্লেখ্য যে, টেলিটকের মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস বিভাগের আয় ছিল 20১৯-2০ অর্থ বছরে ৭৬ কোটি, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১০১ কোটি এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৩০ কোটি। যেখানে উক্ত বিভাগটি টেলিটকের একমাত্র লাভজনক বিভাগ হিসেবে প্রতি বছর রেভিনিউ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যাপক সুনাম বয়ে নিয়ে আসছে, ঠিক এই সময়ে কিন্তু টেলিটকের মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস বিভাগের “মার্কেটিং” অনুবিভাগকে সেলস, ডিস্ট্রিবিউশন ও সিআরএম বিভাগে সংযুক্ত করা এবং এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলীর সিদ্ধান্ত নিতান্তই টেলিটকের ক্ষতি করার জন্য করা হয়েছে। অপরপক্ষে সেলস, ডিস্ট্রিবিউশন ও সিআরএম বিভাগ এমনিতেই একটি বড় বিভাগ। সেখানকার জেনারেল ম্যানেজার এত বড় বিভাগটি ঠিকভাবে চালাতে পারছেন না যার ফলশ্রুতিতে টেলিটকের রেভিনিউ কমছে প্রতি বছর। টেলিটকের রেভিনিউ কমছে প্রতি বছর সেই দিকে তাঁর কোন খেয়াল নাই, 20২১ সালে যেখানে টেলিটকের আয় ছিল ৫৩০ কোটি, এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক টেলিটকে যোগদান করার পরে ২০২২ সালে আয় ৪৬৬ কোটিতে নেমেছে, ২০২৩ সালে আয় হয়েছে ৪৬৮ কোটি। অথচ টেলিটকের টাওয়ার শেয়ারিং বৃদ্ধি করে, কিছু উলটা পালটা জায়গায় কাস্টমার কেয়ার স্থাপন করেছে যার অধিকাংশ কাস্টমার কেয়ারে নূন্যতম বিদ্যুৎ বিলও আয় হয় না, জনশূন্য এলাকায় দুর্নীতি করে টাওয়ার বসিয়ে টেলিটকের ব্যয় বৃদ্ধি করেছেন বহুগুণ। টেলিটকের মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস বিভাগে তাঁর নিজস্ব কিছু পত্রিকা/ টিভিতে চড়া মুল্যে বিজ্ঞাপন প্রদানের জন্য উক্ত বিভাগের জেনারেল ম্যানেজারকে চাপ দেন। সম্প্রতি “সময় টিভিতে” তাঁর কিছু দুর্নীতের খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং আরো ০৫ (পাঁচ) পর্ব ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতির খবর প্রকাশ করবেন বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানান। যার ফলে এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজারকে ৫০ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপনসহ আরো মোটা অংকের বিজ্ঞাপন “সময় টিভিতে” প্রচারের জন্য চাপ দেন। উক্ত জেনারেল ম্যানেজার অস্বীকৃতি জানান বলে জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে অসৎ উদ্দেশ্যে (উক্ত জেনারেল ম্যানেজার গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে ছিলেন), ইসির আদেশ তথা রাষ্ট্রের আদেশ অমান্য করে অন্যত্র জনবল বদলী ও মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস বিভাগ থেকে মার্কেটিং অনুবিভাগ আলাদা করতঃ তড়িঘড়ি করে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক ০২ দিন পূর্বে ০৪ জানুয়ারী ২০২৪ খ্রিঃ তারিখে জনবল বদলি সংক্রান্ত ০১ টি অফিস অর্ডার এবং নির্বাচনের ঠিক ০১ দিন পরে ০৮ জানুয়ারী ২০২৪ খ্রিঃ বদলি সংক্রান্ত আরেকটি অফিস অর্ডার জারী করেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন যে, বর্তমান মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার (যিনি সরকার পক্ষের লোক) তাঁকে দিয়ে কোন অবৈধ উদ্দেশ্য হাসিল, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ করা কিংবা সরকার বিরোধী কোন কার্যক্রম করাতে পারবেন না। এজন্যই উক্ত জেনারেল ম্যানেজারের অনুপস্থিতিতে, ইসির আদেশ অমান্য করে তড়িঘড়ি করে অন্য বিভাগে জনবল বদলী করেছেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত বদলী কর্মকর্তাগণ মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস বিভাগ থেকে রিলিজ অর্ডার না নিয়েই সেলস, ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগে কাজ করছেন যা টেলিটকের সার্ভিস নীতিমালার পরিপন্থি। টেলিটকের সার্ভিস রুল অনুযায়ী, কোন অনুবিভাগ যদি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় তাহলে “Handover ও Receiver” ফর্মে ০২ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজারের স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেলস, ডিস্ট্রিবিউশন ও সিআরএম বিভাগ এবং মার্কেটিং ও ভ্যাস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, তারা এই ধরনের কোন ফর্মে স্বাক্ষর করেন নাই। ব্যবস্থাপনা পরিচালক সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতাভাবে এবং অবৈধভাবে উক্ত সেলস, ডিস্ট্রিবিউশন ও সিআরএম বিভাগে সংযুক্ত করেছেন এবং তাঁদেরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন ।
উল্লেখ্য যে, সরকারী/ বেসরকারী নিয়োগ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, পল্লী বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ সহ বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল সার্ভিসের প্রদানের ফলে মার্কেটিং ও ভ্যাস বিভাগের কাছে প্রায় ১০ কোটিরও অধিক মোবাইল নাম্বারসহ গ্রাহকদের ডাটাবেজ আছে। বিএনপি/ জামাত ঘরানার এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান সম্ভবত বিএনপি/ জামাতের কোন গোপনীয় মেসেজ, নির্বাচন বানচাল, বাধাগ্রস্ত করা, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা কিংবা সরকার বিরোধী অন্য কোন কার্যকলাপ এই ১০ কোটি জনগণকে জানানোর জন্য অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সেলস, ডিস্ট্রিবিউশন ও সিআরএম বিভাগে মার্কেটিং অনুবিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলী ও অন্যান্য সার্ভার, এসএমএস প্যানেল ইত্যাদি সরিয়ে নেওয়ার প্ল্যান করেছেন। এজন্যই তাঁর অনুপস্থিতিতে ইসির আদেশ অমান্য করে অন্য বিভাগে জনবল বদলী করেছেন এ কে এম হাবিবুর রহমান যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের আইনের ধারা ১২৪ (ক) অনুযায়ী রাষ্ট্রের আদেশ অমান্য করা এটি একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল এবং সে অনুযায়ী টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা ধায়ের করা যায়।
টেলিটকে আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান এর দুর্নীতির মূল সহযোগী হচ্ছে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় অভিযুক্ত বিটিসিএল থেকে ডেপুটেশনে আসা বিএনপি/ জামাত ঘরানার কর্মকর্তা নুরুল মাবুদ চৌধুরী, তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে সিস্টেম অপারেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার করা হয়েছে। তাঁদের এই অবৈধ ব্যবসার সাথে আরো একজন যুক্ত আছেন তিনিও বিটিসিএল থেকে ডেপুটেশনে আসা ৫ জি প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও সেলস, সিআরএম এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন এর অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মোঃ খালেদ হোসেন। যার নামে অবৈধ ভিওআইপির অভিযোগের পাশাপাশি ৫জি প্রকল্পেও দুর্নীতির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকটি তদন্ত চলমান আছে। উক্ত বিটিসিএল এর কর্মকর্তা মোঃ খালেদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক-কে ৪ টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব (Sales, Distribution and CRM, Audit, 5G Readiness Project, Company Secretariat) দিয়ে রেখেছেন এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সম্প্রতি ভিওআইপি ও ৫জি প্রজেক্টে ব্যাপক দুর্নীতির জন্য তাঁকে টেলিটক থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা বা বিটিসিএল এ ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা থাকলেও তাঁকে শুধুমাত্র Company Secretariat পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান নিজেও মোঃ খালেদ হোসেন এর সাথে অবৈধ ভিওআইপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রথম আলো, যুগান্তরসহ দেশের প্রায় সবগুলো পত্রিকা টেলিটকের অবৈধ ভিওআইপি নিয়ে বহুবার সংবাদ প্রকাশ করেছে। তারপরও তারা সক্রিয়মান এবং ভিওআইপি করে যাচ্ছে সমানতালে টেলিটকের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম হাবিবুর রহমান এর ছত্রছায়ায়। তেমনি আরো কিছু অবৈধ ভিওআইপির সংবাদের লিঙ্ক নিচে দেওয়া হলো।
https://www.prothomalo.com/bangladesh/অবৈধ-ভিওআইপি-ব্যবসার-সুযোগ-দিচ্ছে-টেলিটক
https://bangla.thedailystar.net/বাণিজ্য/অবৈধ-ভিওআইপি-টেলিটক-রবি-গ্রামীণফোন-বাংলালিংককে-৭-কোটি-৬৫-লাখ-টাকা-জরিমানা-358921
https://techshohor.com/187866/অবৈধ-ভিওআইপি-প্রশাসনিক-জ/
https://www.prothomalo.com/business/অবৈধ-ভিওআইপিতে-শীর্ষে-টেলিটক
https://www.somoynews.tv/news/2021-08-25/অবৈধ-ভিওআইপি-ব্যবসায়-সহায়তা-করছে-টেলিটক
উল্লেখ্য যে, টেলিটকের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে টেলিটক তথা সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই টেলিটককে বাঁচাতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থের অপব্যবহার রোধকল্পে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কালীন ০২ টি বদলী আদেশ বাতিল পূর্বক উক্ত ০৩ জন কর্মকর্তাসহ টেলিটকে সকল লিয়েন/ ডেপুটেশন কর্মকর্তাদের বিটিসিএল এ ফেরত পাঠানোসহ তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা উচিত।
নির্বাচন কালীন ০২ টি বদলি আদেশ অত্র ডকুমেন্টের সাথে সংযুক্ত করা হলোঃ
১) বদলি আদেশ-০১(০৪-১-২০২৪ ইং)
২) বদলি আদেশ-০২(০৮-০১-২০২৪ ইং
৩) বদলী আদেশ- টেলিটক ড্যাশবোর্ডে এখনো দেওয়া আছে।
4) বিটিসিএল কর্মকর্তাদের ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর কিছু খন্ডচিত্র






