ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সংহতকরণ, ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিতকরণ ও ১৫ আগস্টে জাতীয় শোক দিবস পালন না করাসহ বিভিন্ন কার্যসূচিকে সামনে রেখে এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ছাত্রদল, বাম ও ইসলামী সংগঠনসহ অন্তত ৩৫টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার রাতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সুসংহত করার লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে লিয়াজোঁ কমিটি একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে `ছাত্রলীগ’ ও `ছাত্রসমাজ’ ছাড়া বাংলাদেশের সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ অংশগ্রহণ করেন। লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, সমন্বয়ক মাহফুজ আলম (মাহফুজ আবদুল্লাহ), সদস্য নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী (নাসির আবদুল্লাহ) ও আরিফুল ইসলাম আদিব।
জানা যায়, বৈঠকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির রাজনীতি করতে পারবে কি না এ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে অধিকাংশ সংগঠন একমত হয় যে, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে তারা সবাই মিলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনীতি করবে। আগের যে পরিবেশ পরিষদ ছিল সেটি এখন কার্যকর নয়। সংগঠনগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সরাসরি রাজপথে কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না এবং সবাই মিলে গণতন্ত্রের জন্য কাজ করবে।
সভায় জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুসংহতকরণের লক্ষ্যে ন্যুনতম এক মাস বা পরিস্থিতি অনুযায়ী আরো বেশি সময় সব ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের আলাদা করে কোনো কর্মসূচি দিবেন না, বরং এ আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধভাবে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রক্ষা করার জন্য এবং সকল ধরণের প্রতিবিপ্লব রুখে দেওয়ার জন্য লড়ে যাবেন; বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানার ব্যবহার করে কোন ছাত্র ক্যাম্পাসে বা অন্য কোথাও কারো উপর নির্যাতন, নিপীড়ন, হুমকি কিংবা ট্যাগ-ব্লেইম দিতে পারবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কোন কর্মী বা নেতা ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবে না বলে নেওয়া সিদ্ধান্তে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া, ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন না করার বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপস্থিত সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সকল সিদ্ধান্তের সঙ্গে লিখিতভাবে একমত পোষণ করেন।







