আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গোছানো ভোটের মাঠ নষ্টের চেষ্টা, অভিযোগের তীর প্রতিমন্ত্রীর দিকে।এতে আওয়ামী লীগের আদর্শিক এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, বিরাজ করছে বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতি। জানা গেছে, এক প্রতিমন্ত্রীর সাবেক স্ত্রী এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ঘোষণা দিয়ে রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় গোছানো ভোটের মাঠ নস্টে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নৌকাবিরোধীতা করে পদপদবী হারানো একশ্রেণীর বিপদগামী আওয়ামী লীগ নামধারীর সঙ্গে তিনি জোট বেঁধেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, এক প্রতিমন্ত্রীর নেপথ্যে মদদে তিনি আওয়ামী লীগের তৃণমূলে কোন্দল সৃষ্টিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারণ প্রতিমন্ত্রীর যদি মদদ না থাকে, তাহলে তাকে স্বামী পরিচয় দিয়ে তিনি যখন প্রচারণার নামে দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করছেন, তখন তিনি কেনো স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে বলছেন না তার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নাই। আবার তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে তার ওপর প্রতিশোধ নিতে তিনি যদি এমপি হতে চান। তাহলে সেটা প্রতিমন্ত্রীর আসনে হবার কথা এখানে কেন ? স্থানীয় নেতাকর্মীরা এবিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলছে,দলের এমপি ও প্রতিমন্ত্রী হয়েও যিনি দলীয় এমপিবিরোধীদের মদদ দেন তার বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী মহলের হস্তক্ষেপ সময়ের দাবি।
এদিকে একটি অসমর্থিত সুত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রী ট্রার্মকার্ড হিসেবে সাবেক স্ত্রীকে মাঠে নামিয়েছেন। কারণ তার আশঙ্কা রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগে এমপি ফারুক চৌধুরীর কোনো বিকল্প নাই। এবারো তিনি মনোনয়ন পাবেন ও বিজয়ী হবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। আর এবার বিজয়ী হলে তার পূর্ণমন্ত্রী হবার উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। যদি সেটা হয় তবে তার কপাল পুড়তে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি তাকে ট্রার্মকার্ড হিসেবে মাঠে নামিয়েছেন। নির্বাচন তার উদ্দেশ্যে নয়, যেকোনো মুল্য ফারুক চৌধুরীর বিজয় ঠেকানো আসল উদ্দেশ্যে।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসন ছিলো বিএনপি-জামায়াতের দুর্গ। বিগত ২০০১ সাল পর্যন্ত এখানে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশ তো দুরের কথা পোস্টার সাঁটানো ছিল দুরুহ। কিন্ত্ত আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী তার রাজনৈতিক দুরদর্শীতায় বিএনপি-জামাতের আঁতুড় ঘর তছনছ করে আওয়ামী লীগের বসতঘরে পরিণত করেছেন। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হককে পরাজিত করে ফারুক চৌধুরী পরপর তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। যা ছিল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলের কাছেও অপ্রত্যাশিত।
স্থানীয়রা বলছে,রাজশাহী-১ আসনে নির্বাচনের মৌসুম এলেই একশ্রেণীর
বগী (আক্যামা) নেতা মনোনয়নের ধোঁয়া তুলে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময়
গোছানো ভোটের মাঠ নস্টে মরিয়া
হয়ে উঠে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেশে সাধারণ নির্বাচন আসতে এখানো ঢের বাঁকি। কিন্ত্ত ইতমধ্যে দলীয় মনোনয়নের খোয়াব দেখিয়ে একাধিক বিতর্কিত মূখকে মাঠে নামানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলছে, যাদের নাই কোনো রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, নাই সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক ঐতিহ্য বা সামাজিক স্বীকৃতি, নাই আর্থিক স্বচ্ছলতা এমনকি এরা কেউ নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাও নয়, তাহলে এসব ব্যক্তিরা কি বিবেচনায় এমপি মনোনয়নের প্রত্যাশা করতে পারেন। কেউ কেউ বলছে, বিএনপি-জামাতের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের বি-টিম হয়ে তাদেরই এজেন্ডা বাস্তবায়নে এরা কাজ শুরু করেছে। এরা কখানো দলীয় মনোনয়ন পাবেন না, তাদের নেতাকর্মীদের মেনে নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। অথচ এরা নির্বাচনের সময় আসলেই মনোনয়নের গুজব তুলে দলে কোন্দল ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভবনাময় ভোটের মাঠ নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদের এসব অপতৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন , দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। স্থানীয়রা জানান,
তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আসাদুজ্জামান আসাদ, আখতারুজ্জামান আখতার, গোলাম রাব্বানী, আব্দুল্লাহ আল মামুন,
মুন্ডুমালা পৌর মেয়র সাইদুর রহমান প্রমুখ। যারা সবাই নৌকাবিরোধী হিসেবে পরিচিত। আসাদ নৌকার বিরোধীতা করে পদ হারিয়েছেন, রাব্বানী দু’বার নৌকা প্রতিক নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে,পরে আসাদের সঙে যোগ দিয়ে নৌকার বিরোধীতা করে রাব্বানী ও মামুন দলীয় পদ হারিয়েছে, একই কারণে আখতারুজ্জামান আখতার ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।অথচ এদের সঙ্গে জোট করে যদি নৌকার মনোনয়ন পাওয়া যায়। তাহলে বুঝতে হবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। কারণ রাজনীতির মাঠে না থেকেও যদি মনোনয়ন হয় তাহলে রাজনৈতিক নেতারা আর রাজনীতি করবে না।
তৃণমুলের ভাষ্য, এখানে ফারুক চৌধুরীর থাকলে তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তি নাই। এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে ফারুক চৌধুরীকে সরাতে বিএনপি-জামায়াত অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে। এর জন্য তারা আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর বিপদগামী নেতার পেছনে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে তাদের মাঠে নামায়। আওয়ামী লীগের ছায়াতলে থেকে তারা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। তারা মনোনয়ন পাবেন না এটা নিশ্চিত হয়েও মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে মাঠে নেমে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় ভোটের গোছানো মাঠ নষ্ট করে বিএনপি-জামাতের সুবিধা করে দেয় বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।#
Post Views: 269
Related