জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসসহ পাঁচ শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার জামিনের প্রতিবাদে এজলাসে প্রবেশ করে ভাঙচুরের ঘটনার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। সংশ্লিষ্ট মামলায় সভাপতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গ্রেপ্তারের পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সাদিকুর রহমান লিংকনের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ডাকে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করা হয়। ফলে সকাল থেকেই জেলার প্রায় সব আদালতে বিচারিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা আদালত প্রাঙ্গণে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আদালত চত্বরে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের।
বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে তার চেয়ার থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। বর্তমানে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরীয়তুল্লাহ একাধিক মামলার আসামি তালুকদার মো. ইউনুস ও বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুল ইসলাম ছবিকে জামিন দেন। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি একই আদালত সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুনকে জামিন দেন।
আইনজীবী সমিতির নেতারা দাবি করেছেন, গুরুতর মামলার আসামিদের জামিন দেওয়ায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আইনজীবী সমাজে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, জামিনের প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে আদালত বর্জন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।








