ঢাকা, ২ মে, ২০২৩: গণমাধ্যম, গবেষক এবং উন্নয়ন খাতের কয়েকজন ব্যক্তিত্ব পারস্পরিক আস্থা অর্জনের
জন্য সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তারা উল্লেখ করেন যে জনসাধারণের বিশ্বাস গড়ে তোলা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। প্যানেলিস্টরা দ্রুত
বিকশিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে পুরানো দ্বন্দ্বমূলক রাজনীতি পরিহার করে সরকার,
গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান
বিভাগের মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম প্রোগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত 'সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মধ্যে
একটি ফলাফলভিত্তিক ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা মডেল' শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এনএসইউ'র
মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম প্রোগ্রামের সহযোগী অধ্যাপক ড. রিজওয়ান-উল-আলম একটি নতুন
সহযোগিতামূলক মডেল উপস্থাপন করেন।
ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আজকের পত্রিকার সম্পাদক প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। অনুষ্ঠানে
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন; গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর
তুষার; এনএসইউ'র মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সামিখশা কৈরালা, এশিয়া
ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিনিধি জনাব কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন এনএসইউ'র
মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তৌফিক ই এলাহী।
ড. রিজওয়ান গণমাধ্যমের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অনুকূল যোগাযোগ পরিবেশের
ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিধিনিষেধমূলক আইন ও বিধিবিধানের মাধ্যমে অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগকে
নিরুৎসাহিত করে গণমাধ্যমকে জনস্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি
গণমাধ্যমের গুণগত মান হ্রাস এবং বিশেষমহলকে সন্তুষ্ট রাখার ক্ষতিকর প্রবণতা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ
করেন। ড. রিজওয়ান গণমাধ্যমের কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসার সুযোগ এবং জনগণের পক্ষে স্বচ্ছতা দাবি করার
অধিকারের পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন।
আজকের পত্রিকার সম্পাদক প্রফেসর ড. গোলাম রহমান বলেন, বাংলাদেশে সামরিক শাসনামলে সাংবাদিকতার
মান খারাপ হয়েছে। ড. গোলাম রহমান জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের ইতিবাচক সহযোগিতার কথা
তুলে ধরেন, যার ফলে এসিড সহিংসতা রোধ এবং উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির
নেতিবাচক প্রভাব হ্রাসে সক্ষম হয়েছে।
প্রফেসর ড. গীতি আরা নাসরিন বলেন, বিভিন্ন শক্তি বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে
ক্ষুণ্ণ করছে, ফলে গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা হারাচ্ছে।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার গণমাধ্যম মালিক ও বিনিয়োগকারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. সামিখশা কৈরালা বলেন, নৈতিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে
সহায়তা করতে পারে।
কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে ভালো সাংবাদিকতা একটি ভালো ব্যবসা এবং দেশের
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
প্রস্তাবিত সহযোগিতা মডেলটি কার্যকর করার জন্য পাঁচ দফা সুপারিশ উত্থাপিত হয়। এতে গণমাধ্যমের
স্বাধীনতাকে অন্য সব মানবাধিকারের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় এবং
একটি জাতীয় যোগাযোগ কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়। কমিউনিটি রেডিওকে স্থানীয় সংবাদ সম্প্রচারে
উৎসাহিত করা, জনসাধারণের মধ্যে মিডিয়া সাক্ষরতা বৃদ্ধি, নিউজ ন্যায়পালের ভূমিকা সম্প্রসারণ এবং
গণমাধ্যমকে টেকসই সাংবাদিকতার নীতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।








