২০১৮ সালে ভারতের দেরাদুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্মৃতি আজ অতীত। সময় বদলে গেছে, বদলে গেছে শক্তির ভারসাম্যও। পাঁচ বছর পর সেই আফগানিস্তানকেই এবার একই ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো তিন ম্যাচের সিরিজে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ।
রোববার (৬ অক্টোবর) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের সামনে তেমন কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি আফগানরা। ১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে টাইগাররা ১৮ ওভারে ৬ উইকেট হাতে রেখে সহজ জয় তুলে নেয়।
ম্যাচের নায়ক সাইফ হাসান, ৩৮ বলে ৭ ছক্কায় গড়া এক অনবদ্য ইনিংসে ৬৪ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ এবং সিরিজ জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
এর আগে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল জাকের আলির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। তবে শেষ ম্যাচটিও যে কেবল নিয়ম রক্ষার ছিল না, সেটিই প্রমাণ করে দিলেন সাইফ ও তার সতীর্থরা। তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১৪৩ রান। শেষ দিকে মুজিব উর রহমানের ২৩ রানের ছোট ক্যামিও ছাড়া বড় ইনিংস গড়তে পারেননি কেউই।
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩টি উইকেট শিকার করেন। তার সঙ্গে সহযোদ্ধা ছিলেন নাসুম আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিব, দুজনেই নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একটু মন্থর হলেও মধ্যভাগে জয়ের গতিপথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে টাইগারদের জন্য। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ১৬ বলে ১৪ রানে ফেরার পর তানজিদ তামিমও বিদায় নেন ৩৩ রান করে। অধিনায়ক জাকের আলি ও শামীম হোসেন পরপর দুই বলে ফিরে গিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তার আভাস দিলেও তাতে বিচলিত হননি সাইফ হাসান।
নির্ভার ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তার সঙ্গে উইকেটের অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন নুরুল হাসান সোহান, যিনি ১০ রানে অপরাজিত থাকেন। সাইফের ইনিংসটি ছিল মারকাটারি: ৭টি বিশাল ছক্কা ও ২টি চারে সাজানো এক ব্যতিক্রমী টি-টোয়েন্টি ইনিংস।
সিরিজে নতুন মুখদের পারফরম্যান্স, সাইফ হাসানের মতো খেলোয়াড়দের পুনরুত্থান এবং সাইফউদ্দিনের বোলিং ফর্ম—সব মিলিয়ে টাইগারদের জন্য এটি ছিল এক পরিপূর্ণ সিরিজ।
স্কোর সংক্ষেপ (৩য় টি-টোয়েন্টি)
আফগানিস্তান: ১৪৩/৯ (২০ ওভারে)
বাংলাদেশ: ১৪৪/৪ (১৮ ওভারে)
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
সিরিজ ফলাফল: বাংলাদেশ ৩-০ তে জয়ী







